‘সীমান্তে ২০ হাজার টাকা তোলা’! পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

মন্ত্রীর অভিযোগ, ভিন্‌রাজ্য থেকে কৃষকদের জন্য আসা কৃষিযন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পশ্চিমবঙ্গে ঢোকাতে সীমান্তে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা দিতে হচ্ছে। শুধু পুলিশই নয়, এই কাজে দালালচক্রও সক্রিয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

Published on: Aug 6, 2026, 09:08:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Dilip Ghosh on Police Extortion: রাজ্যে তোলাবাজি ইস্যুতে ফের সরব হলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলের একাংশের বিরুদ্ধে অতীতে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর এ বার তাঁর নিশানায় পুলিশের একাংশ। মন্ত্রীর অভিযোগ, ভিন্‌রাজ্য থেকে কৃষকদের জন্য আসা কৃষিযন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পশ্চিমবঙ্গে ঢোকাতে সীমান্তে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা দিতে হচ্ছে। শুধু পুলিশই নয়, এই কাজে দালালচক্রও সক্রিয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (PTI)
পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (PTI)

বুধবার কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বিকশিত অ্যাগফুড টেক সামিট’-এ যোগ দিয়ে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন দিলীপ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের কিছু জায়গায় এখনও তোলাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। তার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন কৃষকেরা।

মন্ত্রী বলেন, 'বাংলার একাংশে যেন এই রোগ সারতেই চাইছে না। সীমান্তে কার্যত ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলছে। তোলার টাকা না দিলে কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকদের জন্য বাইরে থেকে আসা সার, হারভেস্টার, কৃষিযন্ত্র— সবই আটকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক দেরিতে সেই যন্ত্র কৃষকদের হাতে পৌঁছচ্ছে, আবার অনেক সময় পৌঁছচ্ছেই না।'

দিলীপের অভিযোগ, সীমান্তে একটি কৃষিযন্ত্র বা বড় মেশিন ঢোকাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা বা ব্যবসায়ীরা। সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে কৃষকদের উপর। ফলে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো যন্ত্র না পৌঁছনোয় চাষের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, এই তোলাবাজির সঙ্গে শুধু পুলিশের একাংশ নয়, একাধিক দালালচক্রও জড়িত। তাঁর কথায়, কৃষকদের স্বার্থে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কারা কারা সীমান্তে দাঁড়িয়ে তোলাবাজি করছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড়া হবে না। মানুষের স্বার্থে যাঁরা আঘাত করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশের মাধ্যমেই যেমন তদন্ত চলবে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্য সরকার এই ধরনের অভিযোগকে হালকাভাবে নিচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও তোলাবাজি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। সে সময় নিজের দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ফলে এ বার পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

যদিও মন্ত্রীর এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। তবে কৃষিযন্ত্র আনতে গিয়ে সীমান্তে তোলা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যের কৃষি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন নজর, মন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার ও প্রশাসন আদৌ কী পদক্ষেপ করে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More