পুজোর উদ্বোধনে রাজনৈতিক নেতাদের ডাকায় আপত্তি, শমীকের বার্তায় সায় দিলীপের

ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি নিজেও কোনও রাজনৈতিক নেতার পুজোতে যাচ্ছেন না। একই সঙ্গে তিনি পুজোর উদ্বোধনের জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে সওয়াল করেন।

Published on: Sep 13, 2026, 12:52:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দুর্গাপুজোর উদ্বোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বাংলার পুজো সংস্কৃতির পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছে। তৃণমূল সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক মন্ত্রী ও জেলা স্তরের নেতাদের হাত ধরে বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন হতে দেখা গিয়েছে। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজোর আগে সেই দীর্ঘদিনের রীতিতে বদল আনার বার্তা দিল বিজেপি। রাজনৈতিক নেতাদের পরিবর্তে সমাজের বিশিষ্ট এবং গুণী ব্যক্তিদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সেই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি নিজেও কোনও রাজনৈতিক নেতার পুজোতে যাচ্ছেন না। (PTI)
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি নিজেও কোনও রাজনৈতিক নেতার পুজোতে যাচ্ছেন না। (PTI)

ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, তিনি নিজেও কোনও রাজনৈতিক নেতার পুজোতে যাচ্ছেন না। একই সঙ্গে তিনি পুজোর উদ্বোধনের জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোকে রাজনীতির মঞ্চে পরিণত করার পরিবর্তে সমাজে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছেন এমন মানুষদের সামনে আনা উচিত।

কাদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করানো যেতে পারে, সেই বিষয়েও নিজের মত জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর মতে, পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। আগের সরকারও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয়টি বিবেচনা না করে, সবকিছু ঠিক থাকলে তাঁদেরও পুজোর উদ্বোধনে ডাকা যেতে পারে।

শুধু পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিই নন, সাধু-সন্তদেরও পুজোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছেন দিলীপ। পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জে বহু সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে সমাজের জন্য ভালো কাজ করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের মানুষদেরও পুজোর মঞ্চে তুলে আনা দরকার। এতে তাঁরা সমাজের সামনে উদাহরণ হয়ে উঠবেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভালো কাজ করার উৎসাহ তৈরি হবে।

পুজোর উদ্বোধনের ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদদেরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। ক্রীড়া জগতের সফল ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানালে পুজোর সঙ্গে বৃহত্তর সমাজের যোগ আরও বাড়বে বলে তাঁর বক্তব্য। এমনকি রাজনীতিতে যাঁদের ‘ভালো ইমেজ’ রয়েছে, তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে পুজোর উদ্বোধন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে বহুবার রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতেন। তাঁর পাশাপাশি মন্ত্রী এবং দলীয় নেতাদেরও বহু পুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে দেখা যেত। এবার বিজেপি সরকার সেই ধারার পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

রাজ্যের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলার দুর্গাপুজোকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, দিলীপ ঘোষের বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করল। ফলে এবারের পুজোয় উদ্বোধনী মঞ্চে রাজনৈতিক মুখের বদলে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেখা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More