Dipsita Dhar on Mamata: মমতাকে ফের সক্রিয় হওয়ার ডাক দীপ্সিতার, বাম নেত্রীর মুখে চমকপ্রদ বার্তা

দীপ্সিতার কথায়, গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলকে বিপুল সংখ্যক আসনে জিতিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৮০টি আসনে তৃণমূলকে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন ভোটাররা।

Published on: Oct 6, 2026, 12:23:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমে যাওয়া কিংবা তৃণমূলের ঘর ভাঙার ঘটনায় খুশি নয় সিপিএম। বরং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতাকেই ফের সরাসরি রাজনীতির ময়দানে দেখতে চান বামেদের তরুণ নেত্রী দীপ্সিতা ধর। সোমবার কলেজ স্ট্রিটের এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সেই আবেদনই জানালেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বহু মানুষ এখনও মমতাকেই বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে ভরসা করেন। সেই জায়গা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতাকে ফের সামনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দীপ্সিতা।

দীপ্সিতা ধর। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে ফেসবুক Dipsita Joyi)
দীপ্সিতা ধর। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে ফেসবুক Dipsita Joyi)

দীপ্সিতার কথায়, গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলকে বিপুল সংখ্যক আসনে জিতিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৮০টি আসনে তৃণমূলকে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন ভোটাররা। কিন্তু বর্তমানে সেই দলের বহু নেতা বিজেপির দিকে চলে যাওয়ায় বিরোধী রাজনীতির পরিসরই সংকুচিত হচ্ছে। তৃণমূলের হাতে থাকা রাজনৈতিক জায়গা ক্রমশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন এই বামনেত্রী।

তবে তৃণমূলের দুর্বলতায় বামেরা আনন্দিত, এমন ধারণাও খারিজ করেছেন দীপ্সিতা। তাঁর বক্তব্য, মমতার দল ভেঙে যাচ্ছে দেখে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি নন। বরং বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলেই তাঁর আশঙ্কা। একই সঙ্গে মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নেই, এটিই তাঁর কাছে স্বস্তির বিষয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ মমতার প্রশাসনিক রাজনীতির বিরোধিতা করলেও বিজেপির উত্থানের সামনে তৃণমূলকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখতে চাইছেন না দীপ্সিতা।

এই প্রসঙ্গেই মমতার উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। তাঁর আবেদন, ফের সক্রিয় ভাবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে ফিরুন মমতা। কারণ, এত দিন যে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের আস্থা ধরে রাখার দায়িত্বও তাঁর। তৃণমূলের একের পর এক নেতা বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দীপ্সিতা। সেই প্রবণতা ঠেকাতে মমতাকেই উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দীপ্সিতার বক্তব্যের আরও একটি দিক তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের সাম্প্রতিক ভাঙনকে তিনি শুধু দলবদলের স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে দেখছেন না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে যে দলগুলিকে সরাসরি হারাতে পারছে না, সেগুলির ভিতর থেকে নেতা ভাঙিয়ে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করার কৌশল নিচ্ছে। মহারাষ্ট্রে এমন রাজনীতি দেখা গিয়েছে বলেও তুলনা টেনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাতেও সেই একই ছক কার্যকর করা হচ্ছে।

এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন মমতা নিজেই বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে সিপিএমকে পাশে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক দিন আগে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে চিঠি ও ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে দীপ্সিতার প্রকাশ্য আহ্বানকে নিছক রাজনৈতিক সৌজন্য হিসাবে দেখছেন না অনেকে। বরং বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী মঞ্চের সম্ভাবনা ঘিরে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক সময়ে যাঁরা একে অপরের প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এই নতুন সমীকরণ অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির আবহে বামেদের একাংশও এখন নতুন করে হিসাব কষছে। সেই হিসাবেই হয়তো মমতাকে সরিয়ে নয়, বরং বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁকে আবার সক্রিয় দেখতে চাইছেন দীপ্সিতা। বাংলার রাজনীতিতে এই অপ্রত্যাশিত আহ্বান শেষ পর্যন্ত কোন নতুন সমীকরণের জন্ম দেয়, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More