সপ্তাহের শুরুতেই চরম ভোগান্তি! বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা, বিপাকে যাত্রীরা

জানা গিয়েছে, বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ-র দিকে আসা ট্রেনগুলি আটকে যায় ঠাকুরনগর, চাঁদপাড়া স্টেশনে। এদিকে, শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ যাওয়ার ট্রেনগুলিও বিভিন্ন স্টেশনে থমকে যায়।

Published on: Mar 30, 2026, 12:09:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সপ্তাহের শুরুতেই ট্রেন বিভ্রাট। সপ্তাহের প্রথম দিনই এমনিতে ট্রেনে, বাসে, মেট্রোয় অনান্য দিনের তুলনায় বেশ কিছুটা যাত্রী সংখ্যা বেশিই থাকে। সোমবার সকালে সকলেরই অফিসে যাওয়ার তাড়া। তারমধ্যে এক্কেবারে অফিস সময়েই গোবরডাঙা স্টেশনে পয়েন্ট বিকলে বিপত্তি। যার জেরে বনগাঁ-শিয়ালদহ আপ ও ডাউন লাইনে কার্যত ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে স্কুল, কলেজ, অফিসে বেরিয়ে ট্রেনে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন নিত্যযাত্রীরা।

বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে Indian Railways)
বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে Indian Railways)

রেলের তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, গোবরডাঙা স্টেশনে সিগন্যাল সমস্যার জেরেই ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৮টা ৩২-এর বনগাঁ লোকাল প্রায় একঘণ্টা ঠাকুরনগর স্টেশনে আটকে থাকে। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থমকে যায় ট্রেন পরিষেবা। দীর্ঘক্ষণ ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সপ্তাহের শুরুতেই অফিস বা কাজের জায়গায় পৌঁছতে দেরি হচ্ছে যাত্রীদের। কেউ আবার ট্রেন থেকে নেমে কাজে যাওয়ার জন্য বাস ধরেন। সপ্তাহের প্রথম দিনই ট্রেন বিভ্রাটের জেরে চরম ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা। পরে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। রেল পুলিশ সূত্রে প্রথমে জানানো হয়েছিল, গোবরডাঙা পয়েন্টে সমস্যা হয়েছে। বিকল হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পয়েন্ট ঠিক করার জন্য ইতিমধ্যেই রেলকর্মীরা পৌঁছে গিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব পয়েন্ট ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলেই দ্রুত পরিষেবা চালু করা হবে। অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

জানা গিয়েছে, বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ-র দিকে আসা ট্রেনগুলি আটকে যায় ঠাকুরনগর, চাঁদপাড়া স্টেশনে। এদিকে, শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ যাওয়ার ট্রেনগুলিও বিভিন্ন স্টেশনে থমকে যায়। কিছু ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। শিয়ালদহ থেকেও বনগাঁগামী ট্রেনগুলি ছাড়তেও দেরি হয়েছে। আপাতত ধীর গতিতে চলছে শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইনের সব ট্রেন। সাধারণত, সকাল ৮টা ৩২-এর বনগাঁ লোকাল সাড়ে ১০টায় শিয়ালদহে পৌঁছে যায়। সেই লোকাল সাড়ে ১০টার সময়ই ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে ছিল। অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট দেরি। সেই ট্রেন কখন শিয়ালদহ পৌঁছবে, কেউ জানে না। কাজের জায়গায় কীভাবে পৌঁছবেন, চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। প্রসেনজিত বিশ্বাস নামে এক যাত্রী বলেন, '৯টা ৫-এর বনগাঁ লোকাল। এখন চাঁদপাড়ায় দাঁড়িয়ে। শুনছি গোবরডাঙায় আগের গাড়িগুলি পরপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। কখন ছাড়বে বুঝতে পারছি না। আপ-ডাউন কোনও ট্রেনই চলছে না। এই মুহূর্তে কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। আজ ইয়ার এন্ডিংয়ের শেষ দিন। অফিস তো যেতেই হবে। যখন ট্রেন ছাড়বে তখনই যাব।' ভুক্তভোগী আরেক এক যাত্রী শশীধর দেবনাথ বলেন, ‘এতক্ষণ ট্রেন বন্ধ, কখন অফিস পৌঁছতে পারব জানি না। ৯টা ১০-এর লোকাল এল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এত ভিড় তাতেও উঠতে পারিনি। রাস্তার অবস্থাও তথৈবচ। সোমবারেই অফিসে লেট।’