CPIM Durga Puja Book Stall Row: ‘দুর্গাপুজো’ বনাম ‘শারদোৎসব’ তরজায় বাম-বিজেপি সংঘাত, স্টল ভাঙার হুমকি BJP MLA-র

বিরাজ বিশ্বাসের দাবি, যাঁরা ধর্মকে গুরুত্ব দেন না, তাঁদের পুজোর সঙ্গে যুক্ত স্টল করার প্রয়োজনই বা কী। কমিউনিস্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলে মনে করেন। তাই দুর্গাপুজোর সঙ্গে তাঁদের যোগ থাকা উচিত নয়।

Published on: Sep 13, 2026, 12:42:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। পুজোর বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ না ‘শারদোৎসব’ লেখা হবে—এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি বামেদের নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিএমও।

পুজোর বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ না ‘শারদোৎসব’ লেখা হবে—এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি বামেদের নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস।
পুজোর বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ না ‘শারদোৎসব’ লেখা হবে—এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি বামেদের নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস।

বিরাজ বিশ্বাসের দাবি, যাঁরা ধর্মকে গুরুত্ব দেন না, তাঁদের পুজোর সঙ্গে যুক্ত স্টল করার প্রয়োজনই বা কী। কমিউনিস্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা ধর্মকে ‘আফিম’ বলে মনে করেন। তাই দুর্গাপুজোর সঙ্গে তাঁদের যোগ থাকা উচিত নয়। বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, কোনও বাম দলের স্টলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না থাকলে তিনি নিজেই সেখানে গিয়ে স্টল ভেঙে দেবেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সনাতন ধর্ম এবং গেরুয়ার বিরোধিতার অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন। দুর্গাপুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তাঁর আবেদন ছিল, কমিউনিস্টদের বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’র বদলে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টলকে অনুমতি না দেওয়ার জন্য। সেই বক্তব্যের পর এবার বিজেপি বিধায়কের সরাসরি স্টল ভাঙার হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

শনিবার গণেশপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও বামেদের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ বাম আমলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ৩৪ বছর ধরে রাজ্যে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে পুজো, পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ এবং সাত্ত্বিকতার মতো বিষয়কে আড়ালে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় বামেদের পুজো সম্পর্কিত স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, লোকেশ্বরানন্দ বা ভারত সেবাশ্রম সংঘের বইয়ের পরিবর্তে কার্ল মার্কস ও লেনিনের বই বেশি গুরুত্ব পেত।

এমনকি মহালয়া শোনা বা মণ্ডপে গিয়ে আরতি করার মতো বিষয়েও বামেরা আগ্রহী ছিলেন না বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে হনুমান চালিশা, ভারত ভাগ এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের মতো বিভিন্ন প্রসঙ্গও। এভাবেই বামেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানকে ধর্মবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন বিজেপি নেতা।

তবে বিজেপির এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেসও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক কথা বলেছিল। তাঁর বক্তব্য, শিল্পী কী গান গাইবেন, সেটি যেমন কোনও রাজনৈতিক নেতা নির্ধারণ করতে পারেন না, তেমনই সংস্কৃতি বা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও এমন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। আইনের শাসন বজায় না থাকলে তার দায় মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ পাল্টা দাবি করেছেন, মার্ক্স ও লেনিনের চিন্তাধারার সঙ্গে বাঙালির পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন শতরূপ।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর বুকস্টলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ধর্ম, রাজনীতি, মতাদর্শ এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর সংঘাতে পরিণত হয়েছে। পুজোর আগে এই ইস্যুতে বিজেপি ও বামের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More