ED Freezes ₹440 Crore of TMC: দলীয় টাকায় বিমান কিনে তা ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ, তৃণমূলের ৪৪০ কোটি ফ্রিজ ইডির

ইডির দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল।

Published on: Jul 9, 2026, 11:01:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বেসরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দলীয় তহবিলের অর্থ দিয়ে একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টার আবার ভাড়ায় ব্যবহার করেছে তৃণমূলই। এই আর্থিক লেনদেনের বৈধতা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

দলীয় তহবিলের অর্থ দিয়ে একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টার আবার ভাড়ায় ব্যবহার করেছে তৃণমূলই। (Aloke Dey)
দলীয় তহবিলের অর্থ দিয়ে একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টার আবার ভাড়ায় ব্যবহার করেছে তৃণমূলই। (Aloke Dey)

মঙ্গলবার নিউ টাউনে ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ়’-এর অফিস, রাধাবাজারে তাদের সহযোগী ট্রাভেল সংস্থা-সহ মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। বুধবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানায়, তদন্তের স্বার্থে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

ইডির দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে একটি ‘এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০’ বিমান এবং একটি ‘অগাস্টা ১০৯ গ্র্যান্ড নিউ’ হেলিকপ্টার কেনা হয়।

ইডির তথ্য অনুযায়ী, বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৮২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা পাঠায়। সব মিলিয়ে এই দুই উড়ানযান কিনতে প্রায় ১১২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া হেলিকপ্টার কেনার জন্য ২০২৩ সালে কেম্যান আইল্যান্ডসের একটি সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলারের অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, এই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর তা আবার ভাড়ায় ব্যবহার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ, যে সম্পদ কেনার জন্য দলীয় তহবিলের অর্থ ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই সম্পদ ব্যবহার করতেই আবার কোটি কোটি টাকা ভাড়া দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, তা জানতেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে ইডি।

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির অনুমোদিত সইকারী-সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত অর্থের হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা জনসমক্ষে উপলব্ধ। তবে দলীয় তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তৃণমূলের দাবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনবিরুদ্ধ। এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করা হবে বলেও জানিয়েছে দল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More