ভোটের মুখে অ্যাকশন মোডে ED! ভোর থেকেই কলকাতার একাধিক ঠিকানায় হানা, কোন মামলায়?

শনিবার সকাল সাতটার পরপরই ইডির কয়েকটি দল কলকাতা-সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়।

Published on: Mar 28, 2026, 15:03:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভোটমুখী বঙ্গে ফের অ্যাকশন মোডে ইডি। শনিবার ভোর থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি আধিকারিকরা। জমি দখল এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে শহরের একটি সংস্থা এবং তার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বাড়ি-দফতর মিলিয়ে ৭ থেকে ৮টি স্থানে একযোগে তল্লাশি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এমন অভিযানে রাজনৈতিক মহল জুড়ে আবারও জল্পনা বাড়ছে।

ভোটের মুখে অ্যাকশন মোডে ED! (সৌজন্যে টুইটার)
ভোটের মুখে অ্যাকশন মোডে ED! (সৌজন্যে টুইটার)

শনিবার সকাল সাতটার পরপরই ইডির কয়েকটি দল কলকাতা-সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি বেআইনিভাবে বহু মানুষের জমি দখল করেছে এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পের নাম দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালিয়েছে। কলকাতা-সহ নানা জায়গায় এই সংস্থার বিরুদ্ধে ১৬-১৭টি এফআইআর রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এদিন ভোর থেকেই বালিগঞ্জ প্লেসে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি-সহ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। নথিপত্র, জমির দলিল, আর্থিক লেনদেনের হিসাব- সবই খতিয়ে দেখা হয়েছে। সূত্রের খবর, সংস্থার কিছু আধিকারিককে শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

এদিকে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেছে। জোরকদমে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট প্রচার। বাংলার ২৯৪টি আসনে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট হবে দুই দফায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার সময় হঠাৎ কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি অন্য এক মামলায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা সঙ্গে যুক্ত আইপ্যাকের সল্টলেক দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেদিন তল্লাশির সময় হঠাৎ সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু নথি নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ইডি অভিযোগ তোলে, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথিপত্র 'ছিনতাই' করেছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, তাঁর দলের ভোট সংক্রান্ত নথি ইডি বেআইনি ভাবে নিয়ে যাচ্ছিল, তাই তিনি তা আটকেছেন। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

এখনই শেষ নয়, সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলাতেও তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় ইডি দফতরে ডাকা হলেও তিনবারই হাজিরা এড়িয়েছেন। এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আর এসবের মধ্যেই ফের এক নতুন মামলায় শহরে তল্লাশি শুরু করল ইডি।