ED Raids: সোনা পাপ্পুর মামলায় পরপর হানা, শান্তনুর কান্দির 'প্রাসাদে' ইডি, অভিযান পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও

Sona Pappu Land Grab Case: ইডি তদন্তকারীরা চক্রবেড়িয়া, কসবা-সহ শহরের অন্তত তিনটি এলাকায় হানা দেন। এরই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের কান্দির প্রাসাদ প্রমাণ বাড়িতেও হানা দেয় ইডি।

Published on: May 22, 2026, 09:33:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Sona Pappu Land Grab Case Update: সোনা পাপ্পু মামলায় ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার ভোর থেকে কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা চক্রবেড়িয়া, কসবা-সহ শহরের অন্তত তিনটি এলাকায় হানা দেন। এরই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের কান্দির প্রাসাদ প্রমাণ বাড়িতেও হানা দেয় ইডি।

ইডি তদন্তকারীরা চক্রবেড়িয়া, কসবা-সহ শহরের অন্তত তিনটি এলাকায় হানা দেন। (PTI)
ইডি তদন্তকারীরা চক্রবেড়িয়া, কসবা-সহ শহরের অন্তত তিনটি এলাকায় হানা দেন। (PTI)

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রবেড়িয়ার একটি আবাসনে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি কসবায় রুহুল আমিন শাহ নামক পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও পৌঁছয় ইডির দল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই পুলিশকর্মী গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ।

এর আগে বেহালার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে ঘিরে জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসে। সেই মামলাতেই দক্ষিণ কলকাতার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে গ্রেফতার করে ইডি। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নেওয়া, জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই চক্র।

ইডি আদালতে দাবি করেছে, শান্তনু, জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পু মিলে একটি সংগঠিত নেক্সাস তৈরি করেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া হত এবং প্রয়োজন হলে ভুয়ো মামলারও আশ্রয় নেওয়া হতো। সোনা পাপ্পুকে জেরা করে যে তথ্য মিলছে, তার ভিত্তিতেই নতুন করে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর গ্রেফতার হয় সোনা পাপ্পু

গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি ছোড়ার ঘটনার পর থেকেই সোনা পাপ্পু কার্যত আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সময় থেকেই একাধিকবার তাঁকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। যদিও এতদিন তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে ১৮ মে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি অফিসে পৌঁছে যান সোনা পাপ্পু। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কাঁকুলিয়া কাণ্ডের পর থেকেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে নামে ইডি। এরপর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং সোনা-রুপোর গয়না উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে যেত। এই মামলায় ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহাকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তদন্তে ধৃতদের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর যোগাযোগের তথ্যও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি।

কীভাবে সোনা পাপ্পু মামলায় জড়িত ডিসিপি শান্তনু সিংহ?

অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে মিলে নাকি প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি করতেন শান্তনু। এর আগে জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অতীতেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, জয়ের বাড়ি থেকে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিলেন কেন্দ্রীয় অফিসাররা।

সোনা পাপ্পুর সঙ্গে জয় কামদারের যোগসূত্র কোথায়?

কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকেরা আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু সূত্র পান। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সামনে আসে জয়ের নাম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবসায়ী জয় কামদারকে বার দুয়েক তলব করা হয়েছিল। কিন্তু ইডির হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিল সে। এরপরেই ইডির একটি দল বেহালায় তার বাড়িতে হানা দেয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় তদন্তকারীরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More