ঠিক কোন তথ্যে সমস্যা? অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস কমিশনের, নেপথ্যে কী কারণ?

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published on: Jan 7, 2026, 14:19:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকেও ভারতের নাগরিকত্বের প্রমান দিতে হবে? মঙ্গলবার ভরা জনসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে একথা শুনে হতবাক রাজ্যবাসী। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কোনও লিখিত প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, অমর্ত্য সেনের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি অর্থাৎ তথ্যগত ভুল রয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, অমর্ত্য সেনের মায়ের সঙ্গে বয়েসের পার্থক্য ১৫ বছর। তাই ডাকা হয়েছে লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি হিসাবে।

অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস কমিশনের
অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস কমিশনের

মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাট সভা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঞ্চে উঠে তিনি বলেছিলেন, ‘আসতে আসতে শুনছিলাম, অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ভারতের জন্য যিনি নোবেল পুরস্কার জিতে এনেছেন। দেশের নাম বিশ্বসভায় বিশ্ববন্দিত করেছেন। যাঁকে দেখে দেশকে মানুষ চেনেন, যাঁর হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁকেই এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে।’ এরপরই তিনি বলেন, 'হায় রে পোড়া কপাল!' এরপরেই বুধবার সকালে বোলপুরের শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের প্রতিচী বাড়িতে আসেন বিএলও শ্যামাব্রত মুখোপাধ্যায়। যদিও অমর্ত্য সেন বর্তমানে এই বাড়িতে নেই। অমর্ত্য সেনের হয়ে তাঁর বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার এবং তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেন নোটিস গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গেই তাঁর মুখে উঠে আসে ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে নোটিস পাঠানোর বিষয়টিও। পাশাপাশি নোটিস পাঠানো হয়েছে সাংসদ-অভিনেতা দেবকেও। তিনি বলেন, 'মহম্মদ শামি, যিনি বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বকাপ জিতে এনেছেন। তাঁকেও এসআইআর-এর নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁকেও নোটিস দিয়েছে।'

১৯৩৩ সালে জন্ম হয় অমর্ত্য সেনের। সেই সময় অমিতা সেনের বয়স কত ছিল, সেই প্রশ্নেই জটিলতার জন্ম দিয়েছে এসআইআর পর্বে। অমর্ত্য সেনের 'প্রতীচী' বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকন্ঠ মজুমদার বলেন, 'নানামহল থেকে খবর আসছে। যদি তাইই হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।' এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বেরিয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠকেও এই বিষয়টির ওপর জোর দেন। অভিষেকের কথায়, এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভোট চুরির যাবতীয় রহস্য। এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া তথ্যে সমস্যা রয়েছে, এই হেতু দেখিয়ে আবার ভোটারদের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। প্রথম থেকেই তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেছিলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত গরমিলের অজুহাতে সন্দেহজনক তালিকায় রেখেছে। তবে অমর্ত্য সেন বর্তমানে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট সময়েই এনুমারেশন ফর্ম জমা করেছেন।