৬০ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র ৪ লক্ষ! কাজ শেষ কবে? শুরু ভোটপ্রস্তুতির পর্যালোচনা বৈঠক

আগামী ৯ ও ১০ মার্চ কমিশনের ফুল বেঞ্চ থাকবে রাজ্যে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ খতিয়ে দেখবে ফুল বেঞ্চ।

Published on: Mar 05, 2026 2:30 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ জল্পনার পর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ গরহাজির, কারও অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন।’ ওই বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৪ লক্ষ বিচারাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫৬ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার নিষ্পত্তি হতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, তা নিয়ে ধন্দে কমিশনও। এই আবহে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জাতীয় নির্বাচনের ফুল বেঞ্চ আসার আগেই রাজ্যে আসছে জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে চার সদস্যর প্রতিনিধি দল।

The CEO urged all recognised political parties to assist in verifying entries of deceased, migrated, absent, and duplicate voters.
The CEO urged all recognised political parties to assist in verifying entries of deceased, migrated, absent, and duplicate voters.

রবিবার কলকাতায় আসবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সোমবার শহরে আসার কথা ফুল বেঞ্চের। বৈঠক করবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর, পুলিশ ও প্রশাসনের অধিকারীদের সঙ্গে। তবে ৬০ লক্ষের বেশি বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কিনা সেদিকে নজর ওয়াকিবহাল মহলের। আদালত সূত্রে খবর, বুধবার পর্যন্ত সাড়ে ৪ লক্ষ বিচারাধীনের ভবিষ্যৎ বিচারকরা সমাধান করেছেন। এদিকে একজনেরও ভোটাধিকার না কেড়ে সঠিক সময়ের মধ্যে আদৌ ভোট করান সম্ভব কিনা ১০ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে তার আভাস মিলতে পারে। কারণ ওই দিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি রয়েছে। শুনানিতে অবধারিতভাবে বিচারাধীন ৬০ লক্ষের প্রসঙ্গ উঠবে। একগুচ্ছ প্রশ্ন রেখেই ভোটের সব প্রস্তুতি সেরে রাখতে তৎপর নির্বাচন কমিশন।

আগামী ৯ ও ১০ মার্চ কমিশনের ফুল বেঞ্চ থাকবে রাজ্যে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ খতিয়ে দেখবে ফুল বেঞ্চ। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী ছাড়াও রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের কর্তারা ফিরে যাওয়ার পর ১৫ অথবা ১৬ তারিখ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। কারণ ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় থাকবেন। তার আগে ৮ রাজ্যে চলে আসবে কমিশনের চার সদস্য।

ভোট প্রস্তুতির পর্যালোচনা বৈঠক

এদিকে, আবার আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভোট প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। সিইও দফতরের ভার্চুয়াল মাধ্যমে ওই বৈঠক হবে। কমিশন সূত্রে খবর, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দু'দফায় বৈঠক হবে। প্রথমে রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। বৈঠকে থাকতে পারেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, পুলিশ কমিশনার-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। দুপুর ২টো থেকে দ্বিতীয় বৈঠকটি হবে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে। উল্লেখ্য, এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা হতে পারে রাজ্যে। যদিও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা বাতিল করার কথা জানায়। ৮০,৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ শেষ না হওয়ায় বুথবিন্যাস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে আধাসেনা। অনেক জায়গায় তারা ইতিমধ্যে রুট মার্চও শুরু করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গিয়েছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা। লালবাজার সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, প্রথম দফায় ছত্তিশগড় থেকে ১২ কোম্পানি সিআরপিএফ কলকাতায় আসবে। তাদের পুরুলিয়া হয়ে শহরে আসার কথা। তাদের থাকার জন্য লালবাজারের তরফে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে।