West Bengal Assembly Election 2026: বাংলায় এই প্রথমবার! গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে বেনজির সিদ্ধান্ত কমিশনের

West Bengal Assembly Election 2026: ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

Published on: Apr 30, 2026, 23:54:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

West Bengal Assembly Election 2026: বাংলার ভোট গণনা ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে গণনাকেন্দ্র। সেই কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন। শুধু তা-ই নয়, ভোট গণনা কেন্দ্রে কারচুপি এবং অবৈধ প্রবেশ রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গণনাকেন্দ্রে যাঁদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তাঁদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) থাকে। এবার সেই পরিচয়পত্রের সঙ্গে থাকবে কিউআর কোড। ওই কোড স্ক্যান করেই যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া অনুমতিপত্র। আগামী ৪ মে ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। সেদিন থেকেই এই নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হতে চলেছে।

গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের (Utpal Sarkar )
গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের (Utpal Sarkar )

ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি পেশ করে কমিশন জানিয়েছে, গনণাকেন্দ্রে ঢোকার আগে ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভোটকর্মীদের। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে প্রথাগত পদ্ধতিতে ম্যানুয়ালি পরিচয়পত্র যাচাই করা হবে। কিন্তু গণনাকেন্দ্রের একেবারে মূল প্রবেশপথে বসানো থাকবে কিউআর কোড স্ক্যানার। সেখানে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং ছবি মিলিয়ে দেখার পরই ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মিলবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে প্রথম একবার সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মীর আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হবে। গণনাকক্ষে যাওয়ার পথে আবার একবার ওই ভোটকর্মীর আইডি কার্ড যাচাই করবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। শেষবার গণনাকক্ষে ঢোকার মুখে পরীক্ষা হবে। সেখানেই আইডি কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করাতে হবে ভোটকর্মীদের।

কারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন?

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, টেকনিক্যাল স্টাফ, প্রার্থী, নির্বাচন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য কিউআর কোড-যুক্ত আইডি কার্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া আর কেউ গণনাকক্ষে ঢুকতে পারবেন না।

কেন এই নতুন ব্যবস্থা?

ভোট গণনা আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, অবৈধ বা অনুমতি ছাড়া কেউ যাতে গণনাকক্ষে ঢুকতে না-পারেন, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও ভোট গণনায় এমন পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রের কাছে থাকবে মিডিয়া সেন্টার। সেই জায়গাতেই থাকতে পারবেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। তবে সংবাদমাধ্যমের সকল কর্মী ওই সেন্টারে থাকতে পারবেন না। কমিশনের অনুমোদিত চিঠি থাকলেই সেখানে থাকতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কর্মী।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি

ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোটগণনা কেন্দ্র

এবার রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে মোট ৭৭টি কেন্দ্রে। কোন জেলায় কোথায় কোথায় গণনা চলবে, তার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি।

প্রসঙ্গত, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বিগত নির্বাচনগুলিতে গণনাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার যে অভিযোগ উঠেছে, তার মোকাবিলা করতেই এই ‘কিউআর কোড’ প্রযুক্তি। এই ‘কিউআর কোড’ প্রযুক্তি তা চিরতরে বন্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এটাই এখন কমিশনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। নয়া এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪ মে-র গণনা প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।