West Bengal Assembly: বিরোধী দলনেতার ঘর নিয়ে জট! বিধানসভায় বিক্ষোভ TMC-র, কলকাতা পুরসভায় কী ঘটল?
West Bengal Assembly: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রেজোল্যুশন চেয়েছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনীথ বসু। প্রথমে খানিকটা টালবাহানা করলেও পরে মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বৈঠকের পর বিধানসভায় রেজোল্যুশন জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
West Bengal Assembly: বিধানসভায় বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা অব্যাহত। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হলে, বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তৃণমূল। ১২ টা থেকে এক ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পেরোতেই শুক্রবার এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বিধানসভা চত্বর। বিরোধী দলনেতার জন্য প্রস্তাবিত ঘরের সামনেই মেঝেতে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের একঝাঁক বিধায়ক। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন দুই মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক পুলক রায় ও অরূপ রায়-সহ ১৮ বিধায়ক।

বিধানসভায় বিক্ষোভ তৃণমূল বিধায়কদের
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রেজোল্যুশন চেয়েছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনীথ বসু। প্রথমে খানিকটা টালবাহানা করলেও পরে মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বৈঠকের পর বিধানসভায় রেজোল্যুশন জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে এদিনও উত্তপ্ত বিধানসভা চত্বর। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরের সামনে লবির মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেল কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে, মাত্র ১৮ জন তৃণমূল বিধায়ক অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজুলেশন জমা দিয়েছি। তাও এখনও ঘর পাইনি।'
বলে রাখা প্রয়োজন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে কয়েকদিন আগে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই চিঠি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় বিধানসভার সচিবালয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, নিয়মানুযায়ী পরিষদীয় দলকে চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিষদীয় দলের বৈঠকের রেজোলিউশন জমা দিতে হবে। দলের কোনও নেতার ঘোষণা গ্রাহ্য হবে না। তৃণমূল সেই নিয়ম অমান্য করেছে। এরপরেই বৈঠকে বসে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করে তৃণমূল পরিষদীয় দল। কিন্তু, দিন কয়েক আগে বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে এখনও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেয়নি বিধানসভা। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বসার ঘরও তালাবন্ধ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের সই করা রেজুলেশন চাইছেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। কিন্তু, সেরকম কোনও নিয়ম নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে, বিধানসভার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস। কোনও রেজুলেশন কপি তারা পাঠায়নি, কতজন বিধায়কের সমর্থনে শোভনদেব বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার কোনও উল্লেখ ছিল না।
কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন ঘটনা
কলকাতা পুরসভায় শুক্রবার এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, যা নিয়ে বিস্মিত প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে পুর রাজনীতির অভিজ্ঞরাও। নির্ধারিত মাসিক অধিবেশনের দিন পুরসভার মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে কার্যত হতভম্ব হয়ে যান কাউন্সিলররা। ভিতরে ঢোকার সমস্ত পথ বন্ধ থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অন্য ঘরে বসেই সভা করতে হয় তৃণমূল নেতৃত্বকে। জানা গেছে, এদিন সকালে নির্ধারিত সময়েই পুরসভায় পৌঁছেছিলেন কাউন্সিলররা। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল মূল সভাকক্ষে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে তালা দেওয়া রয়েছে। শুধু কাউন্সিলরেরাই নন, পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হন পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল সাংসদ মালা রায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর, অধিবেশন শুরুর আগে মালা রায় নিজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘর খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও তালা খোলা হয়নি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তারপরেই পুরসভার কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমকে অস্থায়ী অধিবেশন কক্ষে পরিণত করা হয়। তবে সেই ঘর কোনওভাবেই আনুষ্ঠানিক সভার উপযোগী ছিল না। সেখানে নির্দিষ্ট আসনবিন্যাস ছিল না, ছিল না মাইকের ব্যবস্থাও। কাউন্সিলরেরাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে কোনওরকমে বসার ব্যবস্থা করেন। কার্যত তাৎক্ষণিক উদ্যোগেই ঘরটিকে সভা করার উপযুক্ত করে তোলা হয়। পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয় অধিবেশন। মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখতে দেখা যায় ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে। উপস্থিত কাউন্সিলরেরাও ঘনিষ্ঠভাবে বসে আলোচনা চালান। যদিও গোটা পরিস্থিতি নিয়ে পুর প্রশাসনের অন্দরে প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুর রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কী কারণে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। যদিও সরকারি বা প্রশাসনিক স্তর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। কলকাতা পুরসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না প্রবীণ কাউন্সিলরদের অনেকেই। সেই কারণেই এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে পুর প্রশাসনের এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।
E-Paper

