আরজি কর কাণ্ডে ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্টেও ক্ষুব্ধ অভয়ার মা, ‘এই চার্জশিটে কিছুই নেই’
আদালতে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, মেয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে আরও কেউ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বলেই মনে করছেন তিনি।
আরজি কর কাণ্ডের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। আদালতে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, মেয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে আরও কেউ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বলেই মনে করছেন তিনি। সম্প্রতি সিবিআইয়ের জমা দেওয়া ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট নিয়েও তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে আরজি কর মামলায় ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী আদালতে জানান, তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছেন। পাশাপাশি যে শ্মশানে নিহত চিকিৎসকের দাহ করা হয়েছিল, সেখানেও সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার বেশ কিছু দিকও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। তবে কয়েকটি বিষয়ে এখনও তদন্ত বাকি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষোভ জানিয়েছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য, গত দুই বছর ধরে একই ধরনের তদন্তের কথা শুনছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নতুন করে তেমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তিনি বলেন, “এই চার্জশিটে কিছুই নেই। এটা দুই বছর ধরে দেখছি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, তদন্ত কমিটির উপর এখনও পুরোপুরি আস্থা হারাননি। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নতুন করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরজি কর কাণ্ডের শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার দাবি করে আসছে, এই ঘটনা শুধুমাত্র সঞ্জয় রাইয়ের একার পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। পরিবারের বক্তব্য ছিল, ঘটনার নৃশংসতা এবং হাসপাতালের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আরও কারও ভূমিকা থাকতে পারে। সেই কারণেই তারা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি তদন্তে আনার দাবি জানিয়েছিল।
৯ অগস্ট ২০২৪ রাতে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। পরদিনই কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে গ্রেফতার করে। পরে পরিবারের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। দীর্ঘ তদন্তের পরও সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে এই মামলায় সঞ্জয় রাই ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তিকে মূল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়নি।
অন্যদিকে সঞ্জয় রাইয়ের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শিয়ালদহ আদালত তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সেই রায়ে অবশ্য সন্তুষ্ট হতে পারেনি নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি, ঘটনার সমস্ত দিক সামনে এনে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক।
এই মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগ। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছে, দাহের প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। সেই বিষয়টিও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। শ্মশানে গিয়ে সিবিআইয়ের তদন্ত এবং নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্টে সেই সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।
আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে যে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও রাজনীতিতেও রয়েছে। নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ চলতি বছর বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মেয়ের সুবিচারের দাবিকে সামনে রেখেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি পানিহাটি বিধায়ক।
তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আরজি কর তদন্ত নিয়ে তাঁর মূল দাবি একই—ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে। সদ্য জমা দেওয়া ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্টে কিছু বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছে বলে সিবিআই জানালেও, পরিবারের প্রশ্নের পুরো উত্তর এখনও মেলেনি।
ফলে আরজি কর মামলায় সামনে এখন দুটি বড় প্রশ্ন। প্রথমত, সঞ্জয় রাইয়ের দণ্ডের বাইরে আর কারও ভূমিকা ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, দেহ দাহের ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠা অনিয়মের পিছনে কারা ছিলেন। নতুন তদন্ত কমিটি এবং সিবিআইয়ের বাকি তদন্ত এই দুই প্রশ্নের কতটা উত্তর দিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


