কার্গিল যুদ্ধের অন্যতম সৈনিক! অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানও হাজির SIR শুনানিতে, হেসে সঞ্জীব ভট্টাচার্য বললেন…

এক সময় যে জওয়ান কার্গিলের মতো যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আজ তাঁকেই দাঁড়াতে হচ্ছে কাগজ হাতে।

Published on: Dec 30, 2025, 19:44:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের ইতিহাস জানা সকলের। পাকিস্তানকে পরাজিত করে বীরত্ব প্রদর্শন করেছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। কূটনৈতিক এবং সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশটি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল। কার্গিল যুদ্ধে দেশের জওয়ানরা নিজেদের প্রাণের পরোয়া না করে কীভাবে লড়াই করেছিলেন সেই ঘটনা প্রত্যেকের জানা। সেই যুদ্ধে অন্যতম সৈনিক ছিলেন সঞ্জীব ভট্টাচার্যও। তিনি বারাসত পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের অন্য দুই ভাইও ভারতীয় সেনায় কর্তব্যরত ছিলেন। কাজের সূত্রে বাইরে-বাইরে কাটাতে হয়েছে জীবনের অধিকাংশ সময়। কিন্তু অবসরের পর নিশ্চিন্তে জীবনযাপনের বদলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। আর তার নেপথ্যে রয়েছে এসআইআর।

অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানও হাজির SIR শুনানিতে
অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানও হাজির SIR শুনানিতে

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরে বসবাসকারী এক প্রাক্তন সৈনিকের নাম এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সঞ্জীব ভট্টাচার্য ও তাঁর পরিবার। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল তাঁদের সঙ্গেই। কার্গিল যুদ্ধে শামিল হওয়া, প্রাক্তন সেনা জাওয়ান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও তলব করা হয়েছে এসআইআর-এর শুনানিতে। এক সময় যে জওয়ান কার্গিলের মতো যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আজ তাঁকেই দাঁড়াতে হচ্ছে কাগজ হাতে। আসতে হচ্ছে শুনানিতে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, '২০০২-এর সময় লে-তে ছিলাম। সেই সময় ভোট কীভাবে দেব? আর সেনা-জওয়ানদের জন্য বিষয়টা তো আলাদা। সেই সময় কখন ভোট হয়েছে আর কী হয়েছে বলব কীভাবে? আমি ২০০৬ অবসর নিয়েছি।'

হাসি মুখেই সঞ্জীববাবু বলেন, 'আমি সব তথ্য নিয়ে এসেছি শুনানিতে। আর পরিবারের সকলে এসেছেন। আমার স্ত্রীর নাম উঠেছে। এখানে আমি কী বলব? গাড়ির হ্যান্ডেল যার হাতে সে দিকে ঘোরাবে, ঘুরতে হবে আর কী?' অন্যদিকে, বিষয়টি জানাজানি হতেই আসরে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকারে কর্তব্যরত অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান ও তাঁর পরিবারকে এসআইআর পর্বে এমন হয়রানির মুখে পড়তে দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় পৌরপিতা চম্পক দাস। তিনি বলেন, 'এটা খুবই দুঃখজনক। ওদের পুরো পরিবার সৈনিক। পুরো পরিবারের নাম ছিল না।'

সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের অবসরপ্রাপ্ত সিআইএসএফ জওয়ান, সত্তরোর্ধ্ব অমিয়রঞ্জন দত্তকেও হাজির হতে হয় এসআইআর-এর শুনানি পর্বে। প্রবীণ নাগরিককে ‘নাগরিকত্ব’ প্রমাণের হাজির হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ভিনরাজ্যে কর্মরত থাকাতেই কী তাঁর নাম ওঠেনি ২০০২-এর সংশোধিত ভোটার তালিকায়? এমনটাই মনে করেন অমিয়রঞ্জন দত্ত। প্রায় ৭৩ বছর বয়সে, অশক্ত শরীরে শনিবার শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। জমা দিয়েছেন নিজের সমস্ত নথি বা কাগজপত্র। তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন দাঁতন-২ এর বিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য। তা সত্ত্বেও ‘অভিমানী’ অমিয়রঞ্জন দত্ত। তিনি বলেন, ‘দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। আমর কাকু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তা সত্ত্বেও ২০০২-এর তালিকায় আমার নাম না থাকায় শুনানিতে হাজির হতে হল।’