মাঝরাতে মহাকরণ লাগোয়া বহুতলে ভয়াবহ আগুন! পুড়ে ছাই একাধিক সংস্থার নথি

রবিবার ভোররাত প্রায় সাড়ে ৩টে নাগাদ আগুন লাগার ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মহাকরণের ঠিক পিছনে লায়ন্স রেঞ্জ এলাকায় রয়েছে ওই বহুতল অফিস ভবন।

Published on: Nov 2, 2026, 09:36:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র মহাকরণের পাশেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মাঝরাতে একটি বহুতল অফিস ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আগুনের লেলিহান শিখার পাশাপাশি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা চত্বর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে অফিসের বিপুল পরিমাণ নথিপত্র। কম্পিউটার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ।

মাঝরাতে মহাকরণ লাগোয়া বহুতলে ভয়াবহ আগুন! পুড়ে ছাই একাধিক সংস্থার নথি
মাঝরাতে মহাকরণ লাগোয়া বহুতলে ভয়াবহ আগুন! পুড়ে ছাই একাধিক সংস্থার নথি

রবিবার ভোররাত প্রায় সাড়ে ৩টে নাগাদ আগুন লাগার ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মহাকরণের ঠিক পিছনে লায়ন্স রেঞ্জ এলাকায় রয়েছে ওই বহুতল অফিস ভবন। সেখানে চার থেকে পাঁচটি সংস্থার দফতর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গভীর রাতে আচমকা ওই ভবন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দেরি না করে খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। খবর পেয়েই একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

চারতলায় আগুন, পুড়ে গেল গুরুত্বপূর্ণ নথি

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলটির চারতলায় প্রথম আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের ভিতরে থাকা কাগজপত্র, আসবাব এবং বৈদ্যুতিন সামগ্রী দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। দীর্ঘক্ষণ ধরে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলে।

সকালের দিকে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল যথেষ্ট বেশি। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট অফিসের সমস্ত নথিপত্র পুড়ে গিয়েছে। একাধিক কম্পিউটারও আগুনের গ্রাসে চলে যায়। ফলে ওই সংস্থাগুলির কাজকর্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। সকাল ৮টার পরেও ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট আগুনের উৎস বা পকেট ফায়ার দেখা যাচ্ছিল। সেগুলি সম্পূর্ণ নেভানোর জন্য কাজ চালিয়ে যান দমকলকর্মীরা। পাশাপাশি ভবনটিকে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। দমকলের আশঙ্কা, ভিতরে কোথাও তাপ বা আগুনের উৎস থেকে গেলে ফের অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শর্ট সার্কিট, নাকি অন্য কোনও কারণ?

প্রাথমিক ভাবে আগুন লাগার কারণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি দমকল আধিকারিকেরা। বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সেটিই একমাত্র কারণ, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর পর গোটা ভবন পরীক্ষা করে দেখা হবে। বহুতলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মহাকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনের একেবারে লাগোয়া এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে শহরের বহুতলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে অফিসপাড়ার ভবনগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আপাতত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব জানার অপেক্ষায় প্রশাসন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More