Firhad Hakim: পুরভোটের লড়াইয়ে ইতি! 'সন্ন্যাসে'র পথে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম

Firhad Hakim: কলকাতা ও সংলগ্ন পুর এলাকার নির্বাচনী আবহ যখন ক্রমশ চড়ছে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

Published on: Oct 24, 2026, 23:00:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Firhad Hakim: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির মধ্যেও নিজের এলাকায় জয় ছিনিয়ে এনে বিধায়ক হয়েছেন। এহেন ঝকঝকে রাজনৈতিক কেরিয়ার থেকে এবার ‘সন্ন্যাস’ নিতে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম। আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে আর প্রার্থী হচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক। দলীয় ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত, শুধু পুরভোট থেকে সরে দাঁড়ানোই নয়, বর্তমান বিধায়ক পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতির ময়দান থেকেই সম্পূর্ণ অবসর নিতে চলেছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। এমনকী তাঁর পরিবারের কেউ আর সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (HT_PRINT)
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (HT_PRINT)

কলকাতা ও সংলগ্ন পুর এলাকার নির্বাচনী আবহ যখন ক্রমশ চড়ছে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবারের কাউন্সিলর, দু’বারের মেয়র, চারবারের বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, তিনি কোনও দলের হয়েই আসন্ন পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে আগামী দিনে আর থাকব না। আমি বর্তমানে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক। সেখানকার সাধারণ মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। যতদিন বিধায়ক পদের মেয়াদ আছে, ততদিন মানুষের সেবক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাব। তারপর রাজনীতিতে আমার আর কোনও ভূমিকা থাকবে না।’ এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ‘সন্ন্যাস’-এর পথে হাঁটতে চলেছেন তিনি।

চেতলার ঐতিহ্যবাহী ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দীর্ঘকাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তবে সাম্প্রতিক ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) পর ওয়ার্ডটি বিভক্ত হয় এবং একটি অংশ মহিলা সংরক্ষিত আসনে রূপান্তরিত হয়। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, ওই সংরক্ষিত আসন থেকে তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে প্রার্থী করা হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছেন খোদ ফিরহাদ। দিন কয়েক আগে ঘনিষ্ঠ মহলে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, পুরভোটে কোনও দলেরই প্রার্থী হবেন না। এমনকী তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী, যিনি এক সময়ে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের পদে ছিলেন, তিনিও লড়বেন না। তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট যে হাকিম পরিবারের কোনও সদস্যই আর নির্বাচনী রাজনীতির ইঁদুরদৌড়ে অংশ নেবেন না। বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক নিশানা ও টানাপোড়েন এড়াতেই পরিবারকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কলকাতা পুরসভার আধুনিকীকরণ এবং নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই তাঁর কার্যকালে পুরসভার নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ এবং পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক সমীকরণের নানা পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। তবে সমস্ত রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও বিধায়ক হিসেবে নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন শেষ করেই রাজনৈতিক ইনিংসের ইতি টানার বার্তা দিলেন ফিরহাদ হাকিম।