Food safety drive: দু'দিনে ৬৫টি! কলকাতায় আরও ২৫ রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল, এবার তালিকায় কারা?
Food safety drive: খাদ্যসুরক্ষা অভিযান আরও জোরদার করতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করেছেন পুরসভার আধিকারিকরা। সেগুলো পরীক্ষা করার পর কোথাও কোন ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে আইন মোতাবেক কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
Food safety drive: রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য দফতর (Food Department)। ছোট দোকান থেকে, বড় মাঝারি দোকান, আবার নামীদামি রেস্তোরাঁ-নজরদারি থেকে বাদ পড়ছে না কোনও কিছুই। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস, কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছিল বিষ রং। কোনও রেস্তোরাঁর পনিরে পেঁচিয়ে চুল। কোনও মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তাই পুজোর আগে বড় পদক্ষেপ করা হল। আগেই কলকাতার (Kolkata) ৪০টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হয়েছিল। এবার মহানগরের আরও ২৫টি হোটেল ও রেস্তরাঁর ফুড লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল করল পুরসভা। ফলে দু’দিনে শহরে ফুড লাইসেন্স বাতিলের তালিকায় থাকা হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানের সংখ্যা বেড়ে হল ৬৫।

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের ফুড সেফটি (Food Safety) বিভাগ সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় রয়েছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের ‘চাং ওয়া’, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের ‘নিউ আলিয়া’ ও ‘আলিশান’-এর মতো পরিচিত প্রতিষ্ঠান। পরিদর্শনে কোথাও খাবার সঠিক ভাবে মজুত না করার অভিযোগ উঠেছে, কোথাও রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে প্রয়োজনীয় সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সের উপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে পুরসভা জানিয়েছে, যে কারণে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেই ত্রুটি সংশোধন করার সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেওয়া হচ্ছে। ফের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা পরিদর্শন এবং অডিট করবেন। সব কিছু নিয়মমাফিক থাকলে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হবে। শুধু শহর কলকাতাতেই নয়, জেলায় জেলায় বিভিন্ন খাদ্যবিপণিতেও পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
খাদ্যসুরক্ষা অভিযান আরও জোরদার করতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করেছেন পুরসভার আধিকারিকরা। সেগুলো পরীক্ষা করার পর কোথাও কোন ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে আইন মোতাবেক কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তবে পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সাংবাদিকদের কাছে যে সমস্ত রেস্তোরাঁর নাম তুলে অভিযোগ করেছেন তার মধ্যে নিজাম, বিগ বস-এর মতো অনেকগুলির সরকারি তালিকায় নেই। বস্তুত এই সুযোগ নিয়ে অনেক রেস্তোরাঁ দাবি করেছে, 'আমরা পুরসভা থেকে কোনও সাসপেন্ডের নোটিস পাইনি।' আবার অনেক রেস্তরাঁ এদিন জোর গলায় দাবি করেছে, 'খাদ্য সুরক্ষা বিধি ও আইন মেনে আমাদের লাইসেন্স বাতিল করার কোনও ক্ষমতা নেই পুরসভার।' স্বভাবতই পুরসভার তরফে ৪০ রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়টি নিয়ে যথারীতি প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অবশ্য এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, হলদিরাম, যুগলস, জয়হিন্দ, গুপ্তা ব্রার্দাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে কেন খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকরা পরীক্ষায় গেলেন না? পুরসভার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে ভবানীপুরের প্রখ্যাত মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিকের কর্ণধার সুদীপ মল্লিক আবার জানিয়েছেন, 'পুরসভার তালিকায় যে মিষ্টির দোকানের উল্লেখ রয়েছে সেটি আমাদের নয়। আমাদের কোনও সংস্থার ক্ষেত্রে এমন কোনও নোটিসও আসেনি। আর আমরা মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খাদ্যবিধি মেনে চলি।' অন্যদিকে প্রসিদ্ধ বিরিয়ানি প্রস্তুতকারক আরসালানের তরফ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে স্পষ্ট করা হয়, খাদ্য গুণমানে কোনও আপস তাঁরা করেন না ও করার প্রশ্নও নেই। আরসালান রেস্তরা অ্যান্ড ক্যাটারারের সিওও হামজা আহসান বলেন, 'কোনও শাখার ক্ষেত্রেই কোনও নোটিস পাইনি। মুজাফফর আহমেদ স্ট্রিটের শাখায় সংস্কারের কাজ চলছে।'
তাঁদের দাবি, কোনও ধরনের ভেজাল বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় না। বাসি বা পচা মাংস পাওয়া যায়নি। মটন বিরিয়ানির ক্ষেত্রে ২৫ বছর যাবৎই কাশ্মীর থেকে উপকরণ আসে, চিকেনের ক্ষেত্রে ব্রয়লার নয়, দেশি মুরগি ব্যবহার করা হয়। আরসালানের নিজস্ব রাসায়নিক ও মাইক্রোবায়োলজির ল্যাবরেটরি খোলার পরিকল্পনা করেছে বলে জানানো হয়। সংস্থার তরফে অমিতাভ ঘোষ জানান, 'কোনও খাবার শেষ হয়ে গেলে ‘সোল্ড আউট’ লিখে দিই, যাতে খাবার নিয়ে কোনও সংশয় না হয়। যশোর রোডের শাখায় ফুড সেফটি অফিসাররা গিয়ে দেখেন টেস্ট করতে গিয়ে ট্যাঙ্গি টেস্ট আছে।' তবে রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে আরসানাল।
E-Paper

