TMC Leader Arrested: ‘গোঁফ দিয়ে যায় চেনা!' ছদ্মবেশে কেরলে লুকিয়েও পুলিশের জালে প্রাক্তন পুরপ্রধান

TMC Leader Arrested: জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভা থেকে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার গ্রিন সিটি প্রকল্পের সোলার বিদ্যুৎ প্যানেলের জন্য ই-টেন্ডার করা হয়। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, ১১টি আপার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসে।

Published on: Jun 14, 2026, 13:36:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

TMC Leader Swapan Nandi Arrested: ‘গোঁফ দিয়ে যায় চেনা।’ আর সেই গোঁফ কেটে ফেললে কী মুশকিল হয় চেনা? নিজেকে বাঁচাতে এমনই মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। গোঁফ কামিয়ে ভোল বদলে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েও পার পেলেন না। গ্রিন সিটি দুর্নীতি মামলায় আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলার স্বপন নন্দীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ‘ছদ্মবেশী’ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কেরলের তিরুবনন্তপুরম গ্রামীণ পুলিশের অধীন কাঞ্জিরমকুলাম থানা থেকে গ্রেফতার করে আরামবাগ থানার পুলিশ। স্বপন নন্দীকে ট্রানজিট রিমান্ডে আরামবাগ নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে এই মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হল চার।

ছদ্মবেশে কেরলে লুকিয়েও পুলিশের জালে প্রাক্তন পুরপ্রধান (সৌজন্যে টুইটার)
ছদ্মবেশে কেরলে লুকিয়েও পুলিশের জালে প্রাক্তন পুরপ্রধান (সৌজন্যে টুইটার)

গ্রিন সিটি দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন তৎকালীন পুরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু, অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় ও ঠিকাদার স্বর্ষাণু ঘোষ। চুঁচুড়া আদালতে এই তিন জনকে তোলার পর তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরামবাগ থানায় জেরা করছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, প্রাক্তন পুরপ্রধানকে হেফাজতে নিয়ে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা। স্বপন নন্দী বর্তমানে আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই আরামবাগ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বন্ধ ছিল তাঁর ফোনও। তবে শেষ রক্ষা হল না।

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভা থেকে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার গ্রিন সিটি প্রকল্পের সোলার বিদ্যুৎ প্যানেলের জন্য ই-টেন্ডার করা হয়। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, ১১টি আপার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার। যা থেকে বিদ্যালয়গুলির সঙ্গে আরামবাগ পুরসভার স্ট্রিট লাইটে ব্যবহার হবে বলে স্থির হয়। সেই গ্রিন সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন পুরবোর্ড, পুরসভার কর্মী ও পুরপ্রধান স্বপনের বিরুদ্ধে। পৌর বোর্ড পরিবর্তনের পর আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তৃণমূল নেতা সমীর ভান্ডারী। সমীরবাবুই আরামবাগ থানায় গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছিলেন বিগত তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় সেই মামলার চাপা পড়েছিল। নতুন সরকার আসার পরেই মামলাগুলি নিয়ে নড়ে চড়ে বসে পুলিশ। পুরনো মামলার তদন্তে নামেন তাঁরা। গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। পলাতক ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কার্যত ছদ্মবেশ ধরে ছিলেন তিনি। লুক বদল করতে গোঁফ কামিয়ে ফেলেন। কিন্তু তাতেও বাঁচতে পারেননি।

যদিও শেষ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় স্বপনবাবু দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, গ্রিন সিটি দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড স্বপন নন্দী। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সরকারি টাকা তছনছ করেছেন। তাঁকে আগেই গ্রেফতার০ করা উচিত ছিল। আইনের মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।