২২ গজ থেকে রাজনীতির ময়দান! লক্ষ্মী-মনোজের পথেই তারকা ক্রিকেটার, TMC-তে আরও দুই বিশিষ্ট
২০০০ পরবর্তী সময়ে বাংলা ক্রিকেটে অভিষেক হয় শিবশঙ্কর পালের। এরপর থেকে দলের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছিলেন এই পেসার।
ছাব্বিশের মহারণের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে বাম, বিজেপি। আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৩টে ১৫ নাগাদ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে। এই আবহে নিজেদের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মানুষদের দলে স্বাগত জানাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস । মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শাসক দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল। বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছে।

এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁদের উপস্থিতিতেই শিবশঙ্কর পাল তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। তুফানগঞ্জে জন্ম হওয়া শিবশঙ্করকে এবার সেখান থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর। এছাড়া তৃণমূলে যোগ দেন শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা এবং ইসলামিক স্কলার এবং মহম্মদ মুফতি আবদুল মতিন। দলে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, 'সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথিতযশা তিন ব্যক্তিত্ব আজ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করছেন।' উল্লেখ্য, আজই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। প্রার্থী তালিকায় বড় বড় চমক থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বাংলাকে বহু ম্যাচে জেতানোর কারিগর
২০০০ পরবর্তী সময়ে বাংলা ক্রিকেটে অভিষেক হয় শিবশঙ্কর পালের। এরপর থেকে দলের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছিলেন এই পেসার। ময়দানে ম্যাকো নামেই পরিচিত তিনি। ২০০৪-০৫ মরশুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। সেই সিরিজে চতুর্থ টেস্টের জন্য ভারতীয় স্কোয়াডে ছিলেন ম্যাকো। যদিও জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি তাঁর। কিন্তু সেই টেস্টে অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় শুধু একজন পেসার (জাহির খান)-কে খেলানোয় শিবশঙ্কর প্রথম একাদশে জায়গা পাননি।কিন্তু বাংলা ক্রিকেটে দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী ছিলেন। ভারতীয় এ দলে খেলেছেন। মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গেও ভারতী এ দলে খেলেছেন।
ক্রিকেটাররা যখন রাজনীতিতে
এর আগে লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মনোজ তিওয়ারিরা ক্রিকেটের ময়দান থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি গতবার হাওড়ার শিবপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে মন্ত্রী হন। বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক-অলরাউন্ডার লক্ষ্মীরতন শুক্লা হাওড়া থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেন। তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার কীর্তি আজাদও তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন গত লোকসভা নির্বাচনের আগে। তিনি বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ। তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসও। ৫ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে ফেরেন বিজেপিতে চলে যাওয়া তৃণমূলের এক সময়ের বিধায়ক। এছাড়াও বাংলার প্রাক্তন পেসার অশোক দিন্দা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না আসন থেকে জিতে গতবার বিধায়ক হয়েছিলেন। এবারও ময়না থেকে বিজেপির টিকিটে লড়বেন দিন্দা।
E-Paper

