Kalighat News: অভিষেকের জন্মদিনে ফের উত্তপ্ত কালীঘাট! মাইক হাতে রাস্তায় মমতা, পুলিশ কমিশনারের ইস্তফার দাবি

Kalighat News: শুক্রবার রাতের ঘটনার পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। তার মাঝে শনিবার দুপুরে আবার ওই এলাকায় চাপানউতর শুরু হয়।

Published on: Nov 7, 2026, 19:23:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Kalighat News: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে শনিবার নতুন করে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালীঘাট (Kalighat) চত্বর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে কেক কাটা ও জমায়েতকে কেন্দ্র করে সংঘাত তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে হাতে মাইক তুলে নিয়ে সরাসরি কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের ইস্তফা দাবি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হুঁশিয়ারি দেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে আদালতের দ্বারস্থ হবে দল।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ANI Video Grab)
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ANI Video Grab)

শুক্রবার রাতের ঘটনার পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। তার মাঝে শনিবার দুপুরে আবার ওই এলাকায় চাপানউতর শুরু হয়। সকাল থেকেই ফুল, মালা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন অনুগামীরা। পটুয়াপাড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে যে অস্থায়ী ছাউনি ছিল, সেখানে ভিড় জমতে শুরু করে। কথা ছিল, দুপুর ৩টে নাগাদ সেই ছাউনির কাছে কেক কাটবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থীদের অভিযোগ, পুলিশ জানায় রাস্তায় এ সব করা যাবে না। তখনই কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয় পুলিশের। তা ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়। ঝামেলা শুনে নেমে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার উপর একটি চেয়ারে উঠে মাইক হাতে নিয়ে প্রথমেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আপনারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করুন।' এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না-হয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পটুয়াপাড়া থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হওয়া উচিত নয়। তৃণমূল কর্মীরা রাস্তার বাঁ-দিক ব্যবহার করবেন, ডান দিক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তার পরেই তিনি বলেন, 'যদি ভাবেন আমি চলে যাব, আমি যাচ্ছি না। আমি থাকছি। পুলিশকে অনুরোধ, আমাদের লোকেরা বাঁ-দিকে থাক। ডান দিক খালি রাখুন। আমরা কারও অসুবিধা করব না।' তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। কালীঘাট থানার ওসি-কে উদ্দেশ করে তাঁর বক্তব্য, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু অভিষেকের বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মীদের দাঁড় করিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আপনাদের একটাই কাজ, একদিকে হামলা, অন্যদিকে, মামলা।' তাঁর অভিযোগ, একদিকে হামলার ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

এর পরেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে সরাসরি নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের সময় কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে এনে অজয় নন্দেরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, 'জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে নৈতিক দায় মেনে বিনীত গোয়েল পদত্যাগ করেছেন। আপনিও পদত্যাগ করুন।' কালীঘাট থানার ওসিকেও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কালীঘাট থানার ওসি, প্লিজ আপনি আপনার পরিবারের টেককেয়ার করুন, থানার টেককেয়ার করুন। কালীঘাট মন্দির আছে, এ মন্দির আপনাদের। মনে রাখবেন বহু মানুষ ওখানে যায়। আমরা সহযোগিতা করব।' প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর বাড়ির সামনে ‘বেআইনি ভাবে’ পুজো করা হচ্ছে। যারা নিজেদের ‘সনাতনী’ বলে দাবি করে, তারা পুজোর আগেও হামলা চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘হিন্দু ধর্মকে আঘাত করবেন না। এ সব খেলা খেলবেন না।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, যে দিন থেকে তাঁরা বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’-তে যোগ দিয়েছেন, সে দিন থেকেই নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দল যাঁরা করছেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এখন দেখার পুলিশ প্রশাসন কীভাবে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়, অভিযোগগুলির তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং পুলিশ কমিশনারকে ঘিরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন দাবি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।