June-Amit: অমিত শাহের সঙ্গে একফ্রেমে জুন মালিয়া! ট্রোল এড়াতে বন্ধ কমেন্ট বক্স, পোস্টে ঠিক কী লিখলেন মেদিনীপুরের সাংসদ?

অমিত শাহের সঙ্গে একফ্রেমে জুন মালিয়া! মেদিনীপুরের উন্নয়ন নিয়ে বড় বার্তা 'তৃণমূল ত্যাগী' সাংসদের। 

Published on: Jul 31, 2026, 20:01:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টলিউড থেকে রাজনীতির ময়দান— অভিনেত্রী তথা মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এক সময় ছিলেন মমতার কাছেক মানুষ! কিন্তু ৪ঠার মে-র পর রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন জুন। এরপর কাকলি ঘোষদোস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দলে গিয়ে ভিড়েছেন জুন-সহ রচনা, দেব, সায়নী ঘোষ-সহ টলিপাড়ার তারকা সাংসদরা। ন্যাশানালিস্ট সিটিজেন পার্টির সাংসদ জুন এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ করলেন তিনি। সাক্ষাতের ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেদিনীপুরের রূপরেখা নিয়ে নিজের দীর্ঘ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সাংসদ। তবে সোশাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক কটাক্ষ ও ট্রোলিংয়ের ঝড় সামলাতে আগেভাগেই এক বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন জুন— নিজের এই মেগা পোস্টের কমেন্ট বক্স সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে মুখ বন্ধ করেছেন ট্রোলারদের!

অমিত শাহের সঙ্গে একফ্রেমে জুন! মেদিনীপুর নিয়ে কী বার্তা সাংসদের? ট্রোল এড়াতে….
অমিত শাহের সঙ্গে একফ্রেমে জুন! মেদিনীপুর নিয়ে কী বার্তা সাংসদের? ট্রোল এড়াতে….

ট্রোল এড়াতে কমেন্ট বক্সে কড়া 'লক'

রাজনীতির পটপরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কটূক্তি ও ট্রোলিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে তৃণমূল ত্যাগের পর অমিত শাহের সাথে ছবি পোস্ট করলে অনুরাগী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের একাংশের থেকে চরম আক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হতো। সেই ক্ষোভ ও বিতর্ক এড়াতেই কৌশলগতভাবে পোস্টের কমেন্ট সেকশন লিমিটেড করে রেখেছেন জুন মালিয়া, যাতে তাঁর বার্তার নীচে কোনো নেতিবাচক মন্তব্যের ঢেউ না আসে।

অমিত শাহের দিকনির্দেশনা ও মেদিনীপুরের ব্লু-প্রিন্ট

অমিত শাহের সঙ্গে নিজের এই সাক্ষাৎ নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত ও গর্বিত। ওঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশ গড়ার প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং অমূল্য দিকনির্দেশনা মেদিনীপুরের মানুষের আরও নিষ্ঠা ও সংকল্পের সঙ্গে সেবা করার জন্য আমার ইচ্ছাশক্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।’

তাঁর কথায়, ‘এই সাক্ষাৎ আমাকে নতুন উদ্দীপনা ও স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে— যাতে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রকে শিল্প, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমার মূল লক্ষ্য হলো শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা।’

আদিবাসী উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে জোর: জুন মালিয়া লেখেন, ‘মেদিনীপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দক্ষতার বিকাশ ও অর্থনৈতিক সুযোগ সুনিশ্চিত করে ওনাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা আমার অন্যতম সংকল্প। এর পাশাপাশি শিক্ষা, উদ্যোগপতি তৈরি এবং আর্থিক স্বাধীনতার মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ফুটবল ও ক্রীড়া ক্ষেত্র: সাংসদ যোগ করেন, ‘খেলাধুলো, বিশেষ করে ফুটবল আমাদের এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত। ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের রাজ্য ও জাতীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৃণমূল স্তর থেকেই ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

নতুন অধ্যায়ের সূচনা

পোস্টের শেষে জুন মালিয়া স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, 'আমাদের নেতৃত্ব এবং মেদিনীপুরবাসীর আশীর্বাদ নিয়ে আমরা সবাই মিলে এক শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেদিনীপুর গড়ে তুলব— যেখানে প্রতিটি গ্রাম প্রগতির মুখ দেখবে এবং প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হবে। সফর তো কেবল শুরু হলো, আমরা সবাই মিলে মেদিনীপুরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব!

কমেন্ট বক্স বন্ধ রাখলেও, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জুনের এই সাক্ষাৎ এবং মেদিনীপুরকে নিয়ে ওঁর এই বার্তা যে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণে নতুন জলঘোলা শুরু করল, তা নিশ্চিত!

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More