উত্তর থেকে দক্ষিণ, এক সার্কিটে বাংলার তীর্থক্ষেত্র! মদনমোহন থেকে তারকেশ্বর—জুড়বে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুর, তারাপীঠ

শনিবার উত্তর কলকাতার রাধাকান্ত জিউ মন্দিরে জন্মাষ্টমী মহোৎসবে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো ও আরতি করেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

Published on: Sep 5, 2026, 22:56:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রকে এবার একটি পর্যটন সার্কিটের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্য বাজেটে যার ঘোষণা আগেই হয়েছিল, শনিবার সেই প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুর, ঠাকুরনগর, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর ধাম পর্যন্ত এক সুসংবদ্ধ ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার উত্তর কলকাতার রাধাকান্ত জিউ মন্দিরে জন্মাষ্টমী মহোৎসবে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো ও আরতি করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। সেই মঞ্চ থেকেই ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার ঘটাতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বর, সেখান থেকে মায়াপুর, ঠাকুরনগর, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর পর্যন্ত তীর্থস্থানগুলিকে একই সার্কিটের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা একাধিক দর্শনীয় ও ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন, তেমনই রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটন শিল্পও আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তীর্থক্ষেত্রগুলিকে কেন্দ্র করে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায় পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির উদ্যোগ, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে জলাভিষেক এবং রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী ১০ তারিখ কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠেও সরকারের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থানগুলিকে ঘিরে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই যে সরকারের লক্ষ্য, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে আসে।

এদিনের বক্তব্যে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার দায়িত্ব সকলের। ভাষা, ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনীতির নামে যাতে মানুষকে বিভাজন করা না যায়, সেই আবেদনও জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে বিএসএফকে জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় পরিণত করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করবে বলে ফের জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ধর্মীয় মেলা—ধর্মীয় পর্যটনকে রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাই এদিনের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More