Adani in Kalighat: শুভেন্দু অম্বানির বাড়িতে যাওয়ার পরে কালীঘাটে আদানি! CM-এর সঙ্গে বসবেন লগ্নি বৈঠক, বাংলার শিল্পে জোর
অম্বানিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং আদানির কলকাতা সফর—দু’টি ঘটনাই একই সূত্রে বাঁধা। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বাংলায় বিনিয়োগে টানার চেষ্টা করছে।
কয়েক দিন আগেই মুম্বইয়ে অম্বানিদের বাড়ির গণেশপুজোয় হাজির হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কালীঘাটের মা কালীর মূর্তির একটি প্রতিরূপ অম্বানি পরিবারকে উপহারও দিয়েছিলেন তিনি। এ বার সেই কালীঘাটেই পুজো দিলেন দেশের অন্যতম শিল্পপতি গৌতম আদানি। বৃহস্পতিবার সকালেই সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন আদানি। তার পরেই নিউ টাউনে তাঁর গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস। দিন গড়ালে রাজ্যের লগ্নি ও শিল্প প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

অম্বানিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং আদানির কলকাতা সফর—দু’টি ঘটনাই একই সূত্রে বাঁধা। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বাংলায় বিনিয়োগে টানার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প আনার কথা বার বার জানানো হয়েছে। সেই আবহেই এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের দুই বড় শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর মুম্বই সাক্ষাৎ হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর। অনন্ত অম্বানির আমন্ত্রণে গণেশচতুর্থীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মুকেশ এবং অনন্ত অম্বানির সঙ্গে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। পরে তিনি জানান, বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। তবে রিলায়্যান্সের তরফে এখনও নির্দিষ্ট কোনও নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
এর মধ্যেই বুধবার রাতে কলকাতায় আসেন গৌতম আদানি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর কর্মসূচি ঠাসা। প্রথমে কালীঘাটে পুজো, তার পরে নিউ টাউনে হাসপাতালের শিলান্যাস। প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এ মোট ২,০০০টি শয্যা থাকবে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোয় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। হাসপাতালের পাশাপাশি কলকাতায় আরও কয়েকটি প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠীর যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে।
তার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার এবং উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটের পুনর্গঠন। কুমোরটুলি ঘাটের সংস্কারের কাজের সঙ্গে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষেরও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রকল্পগুলি নিয়ে আদানি গোষ্ঠী ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে।
শুধু শিল্প নয়, কলকাতার দুর্গাপুজোকেও এ বার নিজেদের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের আটটি দুর্গাপুজোকে বেছে নিয়ে প্রত্যেককে ২৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। বিদেশি অতিথি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে কলকাতার পুজোর শিল্প ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বিশেষ ‘পুজো প্রিভিউ টুর’-এর আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে।
এখন নজর শুভেন্দু-আদানি বৈঠকের দিকে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যে বিনিয়োগ এবং শিল্প প্রকল্পই আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে। আদানি গোষ্ঠীর একাধিক প্রস্তাব কতটা এগোয়, আর নতুন করে আর কোনও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা হয় কি না, সে দিকেই নজর শিল্পমহলের।
অর্থাৎ, এক দিকে অম্বানিদের বাড়ির গণেশপুজোয় গিয়ে বাংলার শিল্পের কথা তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, অন্য দিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে কালীঘাটে পুজো দিয়ে বাংলায় নিজের গোষ্ঠীর প্রকল্পের মাটি শক্ত করতে কলকাতায় গৌতম আদানি। পুজো আর লগ্নি—দুই স্রোতই আপাতত এসে মিলছে বাংলার শিল্প-আলোচনায়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


