Gaighata Minor Girl Death: রাতভর নিখোঁজ, গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ করে খুন? ধৃত আত্মীয়

Gaighata Minor Girl Death: মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই কিশোরীর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোন পাওয়ার পরেই সে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সারারাত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Updated on: Oct 25, 2026, 15:37:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Gaighata Minor Girl Death: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার কথা বলে বেরিয়েছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। রাতের পর থেকে আর খোঁজ মেলেনি তার। রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির বাথরুমের সামনে থেকে উদ্ধার হল ওই কিশোরীর বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত দেহ। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার (Gaighata) এই ঘটনায় ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছ। তদন্তে নেমে পুলিশ কিশোরীর এক আত্মীয়কে আটক করেছিল। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার, ধৃত আত্মীয় (সৌজন্যে এক্স )
গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার, ধৃত আত্মীয় (সৌজন্যে এক্স )

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ বছর বয়সি ওই ছাত্রী গাইঘাটা থানা এলাকার একটি স্থানীয় স্কুলের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। শনিবার রাতে গাইঘাটা বাজার এলাকায় বিজয়া সম্মিলনীর একটি অনুষ্ঠান চলছিল। পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই কিশোরীর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোন পাওয়ার পরেই সে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সারারাত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে তাঁকে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলেছে। সকালে প্রতিবেশীদের একটি বাড়ির বাথরুমের সামনে তাঁর ক্ষতবিক্ষত ও বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর তাঁকে খুন করা হয়েছে।

মৃতার মামি জানিয়েছেন, ‘গতকাল আমাদের এখানে অনুষ্ঠান ছিল। বাড়ি থেকে ৮টা নাগাদ বেরিয়েছিলাম আমরা। রাস্তায় ওর সঙ্গে দেখা হয়। বলেছিল, বান্ধবীর সঙ্গে জলসায় যাবে। তাই আমরা চলে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে আমরা বাড়ি ফিরি। শুনি, ও ফেরেনি। ফোন করেছিলাম, কিন্তু ফোনটা ওয়েটিংয়ে ছিল। নেটওয়ার্কের সমস্যা ভেবে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকালে শুনছি এই কাণ্ড।’ খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, রবিবার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকা থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ও খুন হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার আগে মৃত্যুর কারণ কিংবা শারীরিক আঘাতের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। ঘটনার তদন্তে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, ময়নাতদন্তের ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দলকেও ডাকা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ আছেন কি না, কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তের কী সম্পর্ক, কিসের আক্রোশ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই ছাত্রী অভিযুক্তের মাকে কটূক্তি করেছিল। তাই আগে থেকেই কিশোরীর উপর ক্ষোভ ছিল যুবকের। সেই আক্রোশ থেকেই এমন ঘটনা ঘটানো হল কিনা, দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, ধৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস। ২৩ বছরের ওই যুবক গাইঘাটার শিমূলপুরের বাসিন্দা। বনগাঁ আদালতে তাঁকে হাজির করানো হবে। পুলিশ অভিযুক্তকে ১০ দিনের হেফাজতে চাইবে। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে। গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘ধর্ষণ সমাজের একটা ব্যাধি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। আমি এবং আমার দল মেয়েটির পরিবারের পাশে আছি। যে বা যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একজন ধরা পড়েছে। গাইঘাটা থানার আইসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পকসো আইনি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এই ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দরকার।’