সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! বাইক ও ই-বাইক কিনতে ঋণের অঙ্ক বাড়াল শুভেন্দু সরকার, মিলবে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম

অর্থ দপ্তরের বাজেট ব্রাঞ্চের জারি করা নির্দেশিকায় ঋণের অঙ্ক এবং পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাধারণ মোটরবাইক, স্কুটার অথবা মোপেড কেনার জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন সরকারি কর্মীরা।

Published on: Nov 5, 2026, 07:39:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দীপাবলির আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড়সড় উপহারের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। এবার বাইক, স্কুটার কিংবা ইলেকট্রিক টু-হুইলার কেনার জন্য সরকারি কর্মীদের ঋণ বা অগ্রিম দেওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিল নবান্ন। বুধবার, ৪ নভেম্বর অর্থ দপ্তরের তরফে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রলচালিত দু’চাকার গাড়ি কেনার পাশাপাশি ইলেকট্রিক বাইক বা স্কুটার কেনার ক্ষেত্রেও মিলবে বিশেষ আর্থিক সুবিধা। ফলে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! বাইক ও ই-বাইক কিনতে ঋণের অঙ্ক বাড়াল শুভেন্দু সরকার, মিলবে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম
সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর! বাইক ও ই-বাইক কিনতে ঋণের অঙ্ক বাড়াল শুভেন্দু সরকার, মিলবে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম

অর্থ দপ্তরের বাজেট ব্রাঞ্চের জারি করা নির্দেশিকায় ঋণের অঙ্ক এবং পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাধারণ মোটরবাইক, স্কুটার অথবা মোপেড কেনার জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন সরকারি কর্মীরা। তবে প্রত্যেক কর্মীকে সর্বোচ্চ এই পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে, এমনটা নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন অথবা যে গাড়িটি তিনি কিনতে চাইছেন তার প্রকৃত ক্রয়মূল্য—এই দু’টির মধ্যে যেটি কম, সেই অনুযায়ী অগ্রিমের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক বাইক কিংবা ই-স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে আরও বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ধরনের গাড়ি কেনার জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে কর্মীর ছ’মাসের মূল বেতন অথবা সংশ্লিষ্ট গাড়ির ক্রয়মূল্য, যেটি কম হবে, সেটিই অগ্রিমের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, পেট্রলচালিত গাড়ির তুলনায় ইলেকট্রিক টু-হুইলার কেনার ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা বেশি অগ্রিম পাওয়ার সুযোগ থাকছে।

শুধু প্রথমবারের ঋণ নয়, দ্বিতীয়বার অগ্রিম নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে সুবিধা রাখা হয়েছে। সাধারণ বাইক এবং ইলেকট্রিক টু-হুইলার, দু’ধরনের গাড়ি কেনার জন্যই দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যাবে। তবে এই সুবিধা পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর ন্যূনতম মূল বেতন হতে হবে ২৫ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে নির্দিষ্ট বেতনসীমার নিচে থাকা কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।

ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে অর্থ দপ্তর। সরকারি কর্মীদের মূল অগ্রিমের টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, ঋণের উপর ধার্য সুদ মেটানোর জন্য সর্বোচ্চ ২০টি মাসিক কিস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে মাসিক কিস্তিতে ধাপে ধাপে ঋণ শোধ করতে পারবেন কর্মীরা।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সমস্ত সরকারি দপ্তরকেই অগ্রিম মঞ্জুর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রত্যেক কর্মীকে ঋণের অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত দপ্তরে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে সরকারি কর্মীদের জন্য রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ব্যক্তিগত যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা বাড়ল, অন্যদিকে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার বার্তাও দিল সরকার। এখন দেখার, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কত দ্রুত সরকারি কর্মীরা এই অগ্রিমের সুবিধা হাতে পান।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More