ছাব্বিশের রণাঙ্গনে সাইলেন্ট কিলার! হাইভোল্টেজ নন্দীপ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষে ভূমিপুত্রতেই আস্থা TMC-র?

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিপক্ষ ছিলেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল সবার জানা।

Published on: Mar 17, 2026, 13:48:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ গড় নন্দীগ্রাম। ৩৪ বছরের বামদুর্গ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া থেকে সাম্প্রতিককালে রাজনীতির রং বদল, সবদিক থেকে নন্দীগ্রামের গুরুত্ব ঢের। এই নন্দীগ্রামই একুশে ধুন্ধুমার ভোটযুদ্ধের সাক্ষী। কলকাতা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের এই কেন্দ্র ২০২৬-এর ভোটেও চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসছে। বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, নন্দীগ্রাম তিনি ছাড়বেন না। সোমবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা গেল, তাঁর সেই ইচ্ছাতেই মান্যতা দিয়েছে বিজেপি। একসঙ্গে দুই কেন্দ্রে লড়ছেন তিনি। আর তারপরেই প্রশ্ন উঠেছে প্রতিপক্ষ কে?

হাইভোল্টেজ নন্দীপ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষে ভূমিপুত্রতেই আস্থা TMC-র? (সৌজন্যে টুইটার)
হাইভোল্টেজ নন্দীপ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষে ভূমিপুত্রতেই আস্থা TMC-র? (সৌজন্যে টুইটার)

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিপক্ষ ছিলেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল সবার জানা। শুভেন্দুর কাছে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও একুশের এই ফল নিয়ে মামলা এখনও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে শাসক শিবির। সূত্রের খবর, সেই নীতি 'কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা'র। শুভেন্দু অধিকারীকে ধরাশায়ী করতে শাসকের হাতিয়ার ভূমিপুত্র। একদা শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতা, নন্দীগ্রামের বয়ালের বাসিন্দা পবিত্র করকে এবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির। মঙ্গলবার তৃণমূলের ২৯৪টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণার আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তাঁর হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা তুলে নেন পবিত্র কর। আর তিনি তৃণমূলে ফিরতেই এই বিধানসভা ভোটে ‘শুভেন্দু বনাম পবিত্র’ গুঞ্জন শুরু হয়েছে নন্দীগ্রামে।

আগেও তৃণমূলেই ছিলেন পবিত্র কর। ২০১৮ সালে তিনি ছিলেন বয়াল দুই গ্রামের প্রধান। পরে একুশের ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পবিত্রবাবু। কিন্তু বছর খানেক পর মোহভঙ্গ হয়। রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান তিনি। দু'জনের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। ২০২৩-এ পবিত্র করের স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বয়াল দুই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান হন। নন্দীগ্রাম বিধানসভা দু’টি ব্লক নিয়ে গঠিত। শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম ২ ব্লকেই বিজেপি এগিয়ে। সেই ব্লকেরই বাসিন্দা পবিত্র কর। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির অন্যতম পদাধিকারীও তিনি। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ওই এলাকায় জনপ্রিয় মুখ তিনি। কিছুদিন আগেই আইপ্যাকের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের কথা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, এই খবর জানার পর শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর এই অনুগামী নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ফলে জল্পনা জোরাল হচ্ছিল ক্রমশ। কোনও পক্ষই অবশ্য এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। স্থানীয় সূত্রে খবর, পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই দলের একসময়ের পুরনো কর্মীর উপর ভরসা রাখছে শীর্ষ নেতৃত্ব। হিসেব ঠিক থাকলে ছাব্বিশের রণাঙ্গনে নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্রই তুরুপের তাস হতে চলেছে শাসক শিবিরে।

ছোট্ট চেহারার মানুষ পবিত্র কর মুখে মৃদু হাসি নিয়ে কাজ করে যান। বেশি প্রচারে থাকেন না কোনওদিনই, কাজ করেন নিঃশব্দে। কেউ কেউ তাঁকে বলেন, নন্দীগ্রাম দুই ব্লকের ‘সাইলেন্ট কিলার।’