Nandigram-Rejinagar bypoll: 'সবাই ভোট...,' নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভেঙে জয়ী হাসিরানি, রেজিনগরও BJP-র দখলে
Nandigram-Rejinagar bypoll: বিধায়ক শূন্য নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে গত ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হয়েছিল। ফলাফল প্রকাশ হল আজ। সেই রেজাল্ট থেকেই কার্যত পরিষ্কার, দুর্নীতিহীন, উন্নত রাজ্যের জন্য বাংলার মানুষ এখন বিজেপিকেই চায়।
Nandigram-Rejinagar bypoll: ‘সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে।' বিধানসভা নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও বাংলা গেরুয়া ঝড়ের সাক্ষী হতেই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনে বিশাল মার্জিনে জয়ী বিজেপি। দুই কেন্দ্রেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন পদ্ম প্রার্থীরা। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা তথা বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে ৭২ হাজার ৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার।

২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে শুভেন্দু অধিকারী ৮১ হাজার ২৩০ ভোটে জিতেছিলেন নন্দীগ্রামে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেন। চলতি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সমস্ত মার্জিন টপকে রেকর্ড গড়েছেন প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম-দুটি আসনেই জয়লাভ করার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর থেকে জিতে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। এর ফলেই এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছিল।
বিধায়ক শূন্য নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে গত ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হয়েছিল। ফলাফল প্রকাশ হল আজ। সেই রেজাল্ট থেকেই কার্যত পরিষ্কার, দুর্নীতিহীন, উন্নত রাজ্যের জন্য বাংলার মানুষ এখন বিজেপিকেই চায়। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘উপনির্বাচনে কোনও বোমাবাজি বা গুলি চলেনি। কোথাও পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। নতুন সরকার ভয়মুক্ত ভরসার পরিবেশ তৈরি করেছে। সরকারের সঙ্গে থাকতে চান সংখ্যালঘুরা। বিজেপির জয়যাত্রা দ্রুতগতিতে এগোবে। নন্দীগ্রামে আমার জয়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন হাসিরানি রথ। রেজিনগরে আমাদের প্রাপ্ত ভোটের বেশিরভাগটাই সংখ্যালঘুদের দেওয়া।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বারবার করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংখ্যালঘুদের। তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। রেজিনগরে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের দিদি-বোনরা ভোট দিয়েছেন। বেশি ভোট পেয়েছি সংখ্যালঘুদেরই। ৭০ শতাংশের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোটই দিয়েছেন সংখ্যলঘু ভাইবোনরা। ভেদাভেদের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের এতদিন বোঝানো হয়েছিল, বিজেপি এলে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। গত ৫ মাসে তাঁরা বুঝেছিলেন যে এসব কথা মিথ্যে। তা প্রমাণিত হওয়ায় আমরা তাঁদের ভোট পেয়েছি। আমি গত ৬ তারিখ ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’র কথা বলেছিলাম। তাঁরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আমি খুশি।'
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছেন হুমায়ুন কবীরকেও। তাঁর দাবি, ‘হুমায়ুন সাহেব সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তাতে বেশি মুসলিমরাই বিরোধিতা করেছেন। সংখ্যালঘুরা ভোট দিয়েছেন। কারণ, তাঁরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চান।' প্রতিশ্রুতিমতো রেজিনগর কলেজ, নারকেলবাড়ি ব্রিজ, হাসপাতালকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা, শিল্প – সমস্ত কাজই ধীরে ধীরে হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দুগ্ধশিল্পে উন্নতির জন্য ওখানে আমুল কারখানাও হবে।
E-Paper

