HC on RG Kar Case: ‘মানুষ বিচারের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবে?’ আরজি কর খুন-ধর্ষণ মামলায় ফের সিবিআইকে তোপ হাইকোর্টের

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের তরফে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। তবে সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। বরং তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি এবং বিলম্বের বিষয়টি সামনে আসায় সিবিআই আধিকারিকদের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

Published on: Aug 7, 2026, 10:14:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

HC slams CBI on RG Kar Case: আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের নতুন বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট পেশ হওয়ার পরও তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত
আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের তরফে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। তবে সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। বরং তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি এবং বিলম্বের বিষয়টি সামনে আসায় সিবিআই আধিকারিকদের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিবিআইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তদন্তের রিপোর্টেই একাধিক খামতি ও অসঙ্গতির উল্লেখ রয়েছে। আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, সেই সমস্ত ত্রুটি খুঁজে বের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু এতদিন পরেও কেন সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তদন্তে বিলম্বের কারণও জানতে চান বিচারপতি।

অন্যদিকে বিচারপতি শম্পা সরকার আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঘটনার রাত থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী ঘটেছিল, তা নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে গোটা তদন্ত নতুন করে সাজাতে হবে। তাঁর কথায়, “এভাবে কতদিন আমরা মামলা বিচারাধীন রাখব? মানুষ বিচারের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবে?” বিচারপতির এই মন্তব্যে আদালতের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু তদন্তের গতি নয়, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি শম্পা সরকার নির্দেশ দেন, কোনওভাবেই তদন্ত যেন বিপথে চালিত না হয়। মামলার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুনও এই মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল একই ডিভিশন বেঞ্চ। তখন আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, নতুন করে গঠিত তদন্তকারী দলে আগের কোনও তদন্তকারী আধিকারিককে রাখা যাবে না। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস কেটে যাওয়ার পরও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ফের আদালতের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।

আদালতের প্রশ্নের জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, তদন্তের প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও তথ্য বা প্রমাণ উপেক্ষা করা হচ্ছে না এবং কোনও ত্রুটি রাখা হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সেই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি ডিভিশন বেঞ্চ।

আলোচিত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৮ অগস্ট। তার আগে তদন্তে কতটা অগ্রগতি হয় এবং আদালতের নির্দেশ মেনে সিবিআই কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সকলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More