CM Suvendu Adhikari: কাটমানি-সিন্ডিকেট অতীত? চালু হেল্পলাইন নম্বর, এক ফোনেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছোবে দুর্নীতির অভিযোগ

CM Suvendu Adhikari: দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোট চারটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নবান্নে তৈরি করা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই এই টোল-ফ্রি নম্বরে আসা অভিযোগ খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

Published on: Jul 28, 2026, 22:00:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CM Suvendu Adhikari: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আরও একধাপ এগিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ এবং বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে লাগাতার কড়া ব্যবস্থার বার্তা দেওয়ার পর, এবার যে কোনও অপরাধ বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দুপুরে ভবানী ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ হেল্পলাইনের উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে এখন থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ দিন-রাতের যে কোনও সময় সরাসরি এক ফোনেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিজেদের অভিযোগ পৌঁছে দিতে পারবেন।

এক ফোনেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছোবে দুর্নীতির অভিযোগ (PTI)
এক ফোনেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছোবে দুর্নীতির অভিযোগ (PTI)

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোট চারটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নবান্নে তৈরি করা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই এই টোল-ফ্রি নম্বরে আসা অভিযোগ খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ফোন করা যাবে এই চারটি নম্বরে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্দিষ্ট অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পেতে পারেন, তার জন্য আলাদা আলাদা নম্বর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য ১৫৫৩৩৪ নম্বরে ফোন করতে হবে। সিন্ডিকেটরাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৫ নম্বর চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাস্তায় বেআইনিভাবে গাড়ি থেকে ট্যাক্স বা টোল আদায়ের অভিযোগ জানাতে ১৫৫৩৩৭ এবং বেআইনি মদের কারবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য ১৫৫৩৩৯ নম্বরে ফোন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালি, পাথর ও সিমেন্টের সিন্ডিকেটরাজ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেআইনি লেনদেন রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, টোল ফ্রি নম্বরে আসা সমস্ত ফোন রেকর্ড করা হবে। পরে সেই রেকর্ড প্রয়োজনে পুনরুদ্ধার করার ব্যবস্থা থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের শ্রেনিবিন্যাসের জন্য কৃত্রিম মেধার ব্যবহার করা হবে। এর পরের ধাপে পুলিশ আধিকারিকরা প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কত অভিযোগ নথিভুক্ত হল, তার কী ব্যবস্থা নেওয়া হল তার রিপোর্ট পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। এদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তার পাশাপাশি পুলিশের পরিকাঠামো উন্নত করার বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোর করতে পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে এক লক্ষ শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আদলে পুলিশের কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা পুলিশ কর্মীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় পোস্টিং দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

রাজ্যে জনগণনা শুরু

এই প্রথম বার ভারতের জনগণনা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। রয়েছে সেলফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া, যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। সূত্রের খবর, বাড়ি বাড়ি যাবেন এনুমারেটর বা জনগণনা কর্মীরা। তাঁরা আবেদনপত্র পূরণ করবেন। তবে, তার আগেই কেউ চাইলেই বাড়িতে বসে সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। হাতের মোবাইল ফোনে কয়েক ক্লিকেই হবে কাজ শেষ। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক।

তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে আপনার জেলা, গ্রাম, শহর, পিন নম্বর সব উল্লেখ করতে হবে। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন।’ সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ- ‘ফাইনাল সাবমিট।’ সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

এবারের জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।