SRFTI Incident: 'স্বামীজির অপমান বরদাস্ত নয়!' SRFTI কাণ্ডে কড়া প্রতিক্রিয়া উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর

SRFTI Incident: উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Updated on: Sep 28, 2026, 19:41:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

SRFTI Incident: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে এবার কলকাতার আরও এক নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ধন্ধুমার সংঘর্ষের সাক্ষী থাকল বাংলা। রবিবার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) অডিটোরিয়াম ভাড়া ও আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলা তুমুল বিতর্কের মাঝেই এবার অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhayay)।

এসআরএফটিআই কাণ্ডে কড়া প্রতিক্রিয়া উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর (সৌজন্যে ফেসবুক )
এসআরএফটিআই কাণ্ডে কড়া প্রতিক্রিয়া উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর (সৌজন্যে ফেসবুক )

ঘটনার সূত্রপাত

রবিবার এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানস্থলে যায় এসএফআই। কেন শিক্ষাক্ষেত্রে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আয়োজকদের দাবি, উত্তেজনার মাঝে এসএফআইয়ের তরফে অনুষ্ঠানস্থলে থাকা ছবি ছেঁড়া হয়। পাল্টা তার প্রতিবাদ করেন আয়োজকরা। তার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তা সত্ত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে ইট, পাথর ও বোতলবৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন জখম হয় বলেও দাবি এসআরএফটিআই অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের। তাঁদের দাবি, কারও মাথা ফেটেছে। কারও বা কপালে লেগেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দাও করেছেন পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে কয়েক জন অধ্যাপকও আহত হন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই কার্যত ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। রাত পর্যন্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে ওই সংস্থার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এই প্রেক্ষিতেই সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনও ধরনের হিংসাই নিন্দনীয়। অভিপ্রেত নয়। কিন্তু আমি যা ছবি দেখলাম, তাতে দুই পক্ষের গন্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তা হলে বুঝতে হবে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংস্কৃতি আমরা বদলাব। কোনও বাঙালি ছাত্রছাত্রী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারতে পারেনা। এই সংস্কৃতি বরদাস্ত হবে না।’ সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মহাপুরুষদের মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কাউকে ছাড়া হবে না।’

সোমবার কেমন পরিবেশ?

রবিবারের ঘটনার পরে সোমবারও থমথমে এসআরএফটিআই চত্বর। নির্দিষ্ট আইডি কার্ড ছাড়া ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কারওকে। অনুমতি সাপেক্ষেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন বাইরের কেউ। এদিন সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে একের পর এক হাতে লেখা ব্যানার ও পোস্টার টাঙাতে থাকেন পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসে মৌনী প্রতিবাদও করেন পড়ুয়ারা। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের মূল ক্ষোভ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, কোন প্রশাসনিক এক্তিয়ারে এবং ছাত্র সংসদকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে অডিটোরিয়াম একটি রাজনৈতিক ও আরএসএস-ঘেঁষা গোষ্ঠীকে ভাড়া দেওয়া হল? বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসের ভিতর এ ধরণের কোনও অনুষ্ঠান হতে পারে না। তাঁরা বিজেপি, আরএসস এদের কাউকে মানে না। কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে এসব করার অনুমতি যে দিল সে এখন উধাও বলে অভিযোগ।