Annapurna Yojana Money Transfer: আজ কতজন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেলেন? বাতিল কারা? স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী
Annapurna Yojana Money Transfer: এদিন নেতাজি ইন্ডোরে অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেখানে ডিবিটির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হল। আজ, বুধবার সারাদিনের মধ্যে প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
Annapurna Yojana Money Transfer: একের পর এক প্রতিশ্রুতিতে সিলমোহর। ১ জুলাই থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩৪ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এই আবহে বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম উপভোক্তাদের হাতে শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা সঠিক উপভোক্তা তাদের অ্যাকাউন্টেই সরাসরি টাকা ঢুকবে ৷ উপযুক্ত প্রাপকদের চিহ্নিত করেই এই তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর যারা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

এদিন নেতাজি ইন্ডোরে অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেখানে ডিবিটির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হল। আজ, বুধবার সারাদিনের মধ্যে প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে বলে জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, ‘১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল হয়েছে। ক্রাইটেরিয়া ফিলআপ করেননি। বাকি ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি ঝাড়াই বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। আজ দুপুর ১টায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনকে টাকা ট্রান্সফার করলাম। রাত ১২টা পর্যন্ত পোর্টালে আপলোড হতে হতে আরও টাকা ঢুকতে শুরু করবে।’
কাদের নাম বাদ পড়েছে?
এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ২ কোটির কাছাকাছি অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। এই সরকার সার্ভে করে দেখেছে, ২৭ লক্ষ এমন নাম আছে যাঁরা ভারতীয় নন বা ভোটার লিস্টে নাম নেই, এখানে থাকেন না, মৃত কিংবা একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম তুলে রেখেছেন। সেই সব নাম বাদ পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বলেন, '২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা যোগ্যতা পূরণ করতে পারেনি। সরকারি টাকা যোগ্য আবেদনকারীরাই পাবেন। আমরা চাই না কোনও অযোগ্য এই প্রকল্পের সুবিধা পান।' উপস্থিত উপভোক্তাদের মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন, 'এইটা কি ভুল?' স্টেডিয়ামজুড়ে উত্তর আসে 'না।'
১২ পাতার ফর্ম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী
অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ, ১২ পাতার ফর্ম সব নিয়ে বিভিন্ন অংশে সামালোচনা হয়েছিল। এ দিন সেই প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'আমাদের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু ছাড়াই-বাছাইয়ের পর যোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হল। আমরা চাই না কোনও যোগ্য বাদ যাক। কিন্তু অযোগ্যরা পাবেন না। এটা বিজেপির, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর টাকা নয়, সরকারের টাকা। অপব্যবহার হবে না।' ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তিনি বলেন, '১২ পাতার ফর্ম অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু এই ফর্মের অনেকগুলি পাতায় লেখার কিছু নেই। তথ্য যাঁরা দিয়েছেন তাঁরা শুধু অন্নপূর্ণা নয়, অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পাবেন। আলাদা করে কিছু ফর্ম পূরণ করতে হবে না। আপনারা ধৈয্য ধরে এই কাজ করেছেন ধন্যবাদ জানাই।' মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফর্ম ফিলআপ ও ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া চলছে। পুরো জুন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। জুলাই ও অগস্ট মাসও চলবে। লক্ষ্য একটাই, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে গোটা প্রক্রিয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরা কী টাকা পাবেন?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সরকারের টাকা উপযুক্ত প্রাপকরাই পাবেন। আমরা একজন যোগ্যকেও বাদ দেবো না। তবে সরকারের টাকা কোনও অভারতীয় পেতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছি, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে এসেছেন। সিএএ-তে আবেদন করেছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে যতক্ষণ না সিএএ নিষ্পত্তি হচ্ছে, এই সামাজিক ভাতা চালু থাকবে। প্রশ্ন তুলতে পারেন, এরা মূলত হিন্দু। আমরা লোকধর্ম পালন করেছি। যাঁরা অ্যাজুডিকেট হয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরও যতক্ষণ না ট্রাইব্যুনালে বাতিল বলে ঘোষণা করা হচ্ছে, আমরা এই ভাতা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ভারতীয় না হলে তিনি টাকা পাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, 'মূল আদিবাসী-সহ পাহাড়ের অনেকে মহিলা টাকা পেয়েছেন। আগের ২ কোটি প্রাপকদের মধ্যে পুরুষরাও টাকা পাচ্ছিলেন। তাদের নাম বাদ দিয়েছি। এছাড়াও কোনও অভারতীয় এই টাকা পাবেন না।'
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আধিকারিকরাও। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল থেকে এই বিভাগের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এই দফতরের প্রধান সচিব মৌমিতা গোদারিয়া ও তাঁর টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই আবেদনগুলি ছাড়াই-বাছাই করেছেন। আমরা তো সময় বলে দিই। বাকি কাজ তাঁদের করতে হয়। অনেক ধন্যবাদ জানাই।'
E-Paper

