বিজেপির 'চামচা!' ব্রিগেডে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে হুমায়ুন, পাল্টা হুঁশিয়ারিও
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান সদ্য দলত্যাগী বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, 'ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই ভয় দেখাতে লোক পাঠিয়েছে।'
ব্রিগেডের ময়দান পরিদর্শনে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান, কটূক্তি, এমনকী বিজেপির ‘চামচা’ বলেও সম্বোধন করা হয় বলে অভিযোগ। 'গো ব্যাক' স্লোগানও দেওয়া হয় তাঁকে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কর্মী। যদিও নিরাপত্তারক্ষীরা হুমায়ুন কবীরের চারপাশে বৃত্ত তৈরি করায় পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তবে বিক্ষোভের মুখে ব্রিগেড ছাড়েন তিনি।

হুমায়ুন কবীরের পরিকল্পনা, ৩১ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ব্রিগেডে বড়সড় সভা করবেন তিনি। সেই সভার প্রস্তুতি হিসেবেই সোমবার সকালে ব্রিগেডে এসে বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছিলেন তিনি। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। ব্রিগেডে মাঠ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন হুমায়ুন। সেই সময় মাঠে কয়েকজন যুবক খেলা করছিলেন। হুমায়ুনকে দেখেই তাঁরা এগিয়ে আসেন। সঙ্গে-সঙ্গে চিৎকার করতে শুরু করেন। তাঁরা বলতে থাকেন হুমায়ুন বিজেপির দালাল। সকলেই নিজেকে তৃণমূল বলে দাবি করেন। যদিও হুমায়ুন কোনও কিছুই পাত্তা দেননি। যাঁরা হুমায়ুনকে ঘিরে এদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে, 'হুমায়ুন কবীর বিজেপি কর্মী। তিনি বিজেপির দালাল।' এরপর সাংবাদিকরা ওই বিক্ষোভকারীকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কী কোনও রাজনৈতিক কর্মী? তখন তিনি উত্তর দেন, 'আমরা কলকাতা পোর্ট এলাকা থেকে এসেছিলাম। এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছিলাম। আমরা তৃণমূল করি।'
গোটা বিষয়টি নজরে রাখেন হুমায়ুন কবীর। এই নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান সদ্য দলত্যাগী বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, 'ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই ভয় দেখাতে লোক পাঠিয়েছে।' তারপরেই সোজাসাপটা হুঁশিয়ারি, 'কলকাতা কারও বাবার নয়। মসজিদও হবে, সমাবেশও হবেই। যার ক্ষমতা আছে, রুখে দেখাক।' বিক্ষোভকারীরা নিজেদের তৃণমূল সমর্থক দাবি করে বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে উনি মিথ্যে ও কুৎসা রটাচ্ছেন। তারই প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ।' এ ব্যাপারে হুমায়ুনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, 'কে কী বলল, তার জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।' পাশাপাশি দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলের সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে হুমাযুন বলেন, 'চাকরি বিক্রি করে দুর্নীতিতে ইতিহাস তৈরি করেছে মমতা চোরের সরকার। সে কারণেই বাংলার মানুষের স্বার্থে নতুন দল গঠন করেছি। ভোটে লড়ে মমতাকে ক্ষমতাচ্যুত করব।' ব্রিগেডে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলেও জানান হুমায়ুন। একই সঙ্গে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরেধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। বিভিন্ন সভা সমাবেশে শুভেন্দুর দাবি, এবারের ভোটে বিজেপি ২২০টি আসন পাবে। এ ব্যাপারে হুমায়ুনের কটাক্ষ, 'শুভেন্দু ২২০ কোথা থেকে পাবে? বিজেপি তো ৩০ হাজার বুথে কর্মীই দিতে পারে না।'
গত ২০ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। তার আগে ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরেই তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকেই একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন ভরতপুরের এই বিধায়ক। এরমধ্যেই মুর্শিদাবাদের বুকে সভা করে নতুন করে নিজের দল গঠন করেন। নাম দেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি।' নতুন দল গঠনের পর হুমায়ুন জানিয়েওছিলেন তাঁর নব গঠিত দল ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে। এদিন তিনি জানান, এখন ১৮২টি আসনে প্রার্থী রেডি আছে।
E-Paper

