লাগাতার প্রাণহানির হুমকি! ভোটের আগে হুমায়ুনকে ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা শাহের মন্ত্রকের

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তাড়া করে বেরিয়েছে হুমায়ুন কবীরকে।

Published on: Mar 05, 2026 1:17 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

লাগাতার প্রাণহানির হুমকি এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় অবশেষে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার তাঁর জন্য ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ১৩ জন সিআইএসএফ জওয়ানের একটি বিশেষ দল বিধায়কের বাসভবনে পৌঁছে নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

হুমায়ুন কবীরকে Y+ ক্যাটিগরির সুরক্ষা
হুমায়ুন কবীরকে Y+ ক্যাটিগরির সুরক্ষা

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তাড়া করে বেরিয়েছে হুমায়ুন কবীরকে। কয়েকমাস আগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, দলবিরোধী আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তারপরই নিজের দল তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। তারপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বিধায়কের দাবি ছিল, তাঁকে ক্রমাগত খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী তাঁর নিরাপত্তায় বাউন্সার পাঠাচ্ছেন বলে দাবি করেছিলেন। প্রথমে জানা গিয়েছিল, হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বাউন্সার। যদিও পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। জানা যায়, সেই বাউন্সাররা আদতে ভিনরাজ্যের না হয়ে বাংলার বাসিন্দা জানাজানি হওয়ায় তাঁদের সরিয়ে দেন তিনি। শেষমেশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানদের জন্য হুমায়ুন কবীরের পরিবারের তরফ থেকে তাঁদের বসতবাড়ির ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত অন্য একটি বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, 'যে রহস্য ছিল তা আস্তে আস্তে উদঘাটিত হচ্ছে। এর আগে হুমায়ুন কবীর ২০১৯ সালে বিজেপিতে ছিলেন। তিনি লোকসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অমিত শাহ গলা ফাটিয়েছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি। আবার নবরূপে বাবরি মসজিদের নামে যখন তিনি অনেক কিছু করতে চললেন, একদিকে যোগী আদিত্যনাথ বললেন বাবরি মসজিদ নিয়ে যারা কথা বলছে তাদের সমাজ থেকে বয়কট করা উচিত। উল্টোদিকে অমিত শাহ তাঁকে ওয়াই ক্যাটিগরির সুরক্ষা দিচ্ছেন। সমস্তটাই হচ্ছে বিজেপির চিত্রনাট্য, এটা পরিষ্কার। চিত্রনাট্যটা হয়েছে বিজেপির অফিসে। চরিতার্থ করছেন কয়েকজন। একদিকে আইএসএফ, একদিকে হুমায়ুন কবীর।'

নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। নির্বাচন কমিশন তাঁর নবগঠিত দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এখন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসমক্ষে দলের নাম প্রকাশ করা হবে। সেখানে কোনও আপত্তি না উঠলে কমিশন চূড়ান্ত স্বীকৃতি প্রদান করবে এবং তারপরই প্রতীকের জন্য আবেদন করতে পারবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এবং দলের রেজিস্ট্রেশন- এই দুই ঘটনায় ভরতপুরের এই বিতর্কিত নেতার রাজনৈতিক ওজন ও লড়াইয়ের ক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।