Humayun Kabir: রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হুমায়ুন, কবে যাবেন দিল্লি? TVK-র সঙ্গেও...
Rejinagar By Election: হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, শুধু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নয়, তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দ্বারস্থও হবেন।
Rejinagar By Election: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগরেও উপনির্বাচন। আর আসন্ন রেজিনগর উপনির্বাচনের আবহে রাজ্য বিজেপির রাজনীতির সামনে দাঁড়াতে না পেরে এবার সরাসরি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, যেভাবে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, বিনা কারণে হেনস্থা ও গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রবিরোধী। তাই শেষমেশ রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (টিভিকে)-র সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন।

শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। ইতিমধ্যে ভোটপ্রচারে বাধা, দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছেন। তার পরেও ‘পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না’ বলে অভিযোগ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধানের। তিনি জানান, রেজিনগর উপনির্বাচন জিততে মরিয়া বিজেপি পুলিশ-প্রশাসনকে অনৈতিক ভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘আমার দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর অন্যায় অত্যাচার চালানো হচ্ছে। বিনা কারণে এই হেনস্থা এবং পুলিশি গ্রেফতারির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই প্রশাসনিক দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে দিল্লি যাব।’ বিজেপির সঙ্গে রফার সম্ভাবনা উড়িয়ে তিনি জানান, নিজের দলকে স্বতন্ত্র রেখেই প্রশাসনের এই দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন তিনি।
রেজিনগরে উপনির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার দিন। তার আগে শুক্রবার হুমায়ুন কবীর বলেন, 'ভারতবর্ষের এতগুলি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে এই দলটি। তাহলে একটি উপনির্বাচন জেতার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ভোট লুট করার কী খুব দরকার রয়েছে? এই প্রশ্নই আমি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রাখব।' তাঁর সংযোজন, ‘উপনির্বাচনের ফলাফলের উপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে না। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, দিল্লি যাচ্ছি।’ হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, শুধু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নয়, তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দ্বারস্থও হবেন। তাঁর কথায়, 'নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমি সমস্ত বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট তৈরি করতে প্রস্তুত, নিজের দলকে অটুট রেখেই।' প্রকৃতপক্ষে তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য, ভারতবর্ষের মানুষের কাছে বিজেপির এই অনৈতিক চরিত্রের কথা তুলে ধরা, বলেই জানান হুমায়ুন কবীর। পাশাপাশি তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি ‘ছন্নছাড়া’ দলে তিনি কখনও যোগ দেবেন না। কটাক্ষ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘মাত্র ছ’মাসের নতুন দলকে পাথেয় করে বিজেপির নীতি এবং বিশেষত সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমার উদ্দেশ্য।’
E-Paper

