IIT Kharagpur: IIT খড়্গপুরের অভিনব উদ্যোগ! পড়ুয়াদের অবসাদ, একাকিত্ব কাটাতে এবার 'AI'
IIT Kharagpur: ২০২৫ সালে পাঁচটি এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুটি আত্মহত্যার ঘটনার সাক্ষী হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সংকটে পড়া পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে তাদের ‘ফ্যাকাল্টি মেন্টরশিপ’ কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।
IIT Kharagpur: পড়ুয়াদের মানসিক অবসাদ ও একাডেমিক চাপ মোকাবিলায় এক অভিনব পদক্ষেপ করতে চলেছে আইআইটি খড়গপুর। এবার পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগাম শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনও পড়ুয়ার সিজিপিএ হঠাৎ কমে যাওয়া, অনুত্তীর্ণ বা ব্যাকলগ পেপার জমতে থাকা কিংবা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে ক্রমাগত অবনতির মতো বিষয়গুলোকে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

২০২৫ সালে পাঁচটি এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুটি আত্মহত্যার ঘটনার সাক্ষী হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সংকটে পড়া পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে তাদের ‘ফ্যাকাল্টি মেন্টরশিপ’ কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি, যেসব হোস্টেল উইং প্রতিনিধিরা নিজেদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন, তাঁদের অতিরিক্ত একটি একাডেমিক ক্রেডিট দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ‘সারথি’ কর্মসূচির অধীনে নিয়োজিত এই হোস্টেল উইং প্রতিনিধিদের কাজ হবে সহপাঠীদের মধ্যে আচরণের যে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করা এবং তাদের কারও কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা। এছাড়া, ব্যাকলগ বা অনুত্তীর্ণ পেপারগুলো যাতে পড়ুয়ারা দ্রুত পাস করতে পারেন, সেজন্য বছরে দুবার করে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।
আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী বলেন, 'পড়াশোনার চাপ বা একাডেমিক স্ট্রেস যেন এমন পর্যায়ে না পৌঁছায় যে তা অনেক দেরিতে আমাদের নজরে আসে। আমরা সংকট তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে সংকটের প্রাথমিক লক্ষণ দেখেই পাশে দাঁড়াতে চাই। ডেটা-ভিত্তিক অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা, ফ্যাকাল্টি মেন্টরশিপ, সহজে একাডেমিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ এবং পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার মেলবন্ধনে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যা প্রাথমিক পর্যায়েই সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং সহানুভূতির সঙ্গে তার সমাধান করবে।' এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এই ঝুঁকি-চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থাটি কোনও পড়ুয়ার সিজিপিএ হঠাৎ কমে যাওয়া, ব্যাকলগ জমতে থাকা, ক্লাসে ক্রমাগত অনুপস্থিতি এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নে পারফরম্যান্সের ক্রমাগত অবনতি ঘটলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজারদের কাছে অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। এই প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা জানান, 'ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজাররা প্রায়শই বলেন যে, তাঁদের অধীনে অনেক পড়ুয়া থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকা নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কেসগুলো যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইলাইট বা চিহ্নিত হয়ে যায়, তবে তাঁদের পক্ষে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া অনেক সহজ হবে।'
এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি স্নাতক পড়ুয়াদের জন্য পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শিক্ষকদের পরিচালনায় ‘মিত্র’ নামের একটি প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে। এই কর্মসূচির অধীনে প্রতি ১০ থেকে ১২ জন পড়ুয়ার জন্য একজন করে শিক্ষক বা মেন্টর নিযুক্ত করা হবে। এক কর্মকর্তা জানান, 'মেন্টরদের প্রতি মাসে অন্তত একবার পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং তাঁদের মনমেজাজ বা ‘মুড’, মানসিক চাপ এবং একাকীত্বের লক্ষণগুলো ‘সেতু’ অ্যাপে নথিভুক্ত করতে হবে। কোনও পড়ুয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউন্সেলিং সেন্টারে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা চলে যাবে।'
E-Paper

