ফেরিওয়ালা সেজে রেইকি! মুর্শিদাবাদে ঢুকে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের ‘বদায়ু’ গ্যাং, সোনার দোকানে হুলুস্থূল...

ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই গ্যাংটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে অপরাধ ঘটায়।

Published on: Jan 01, 2026 6:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভিন জেলা নয়। একেবারে ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ছে প্রত্যন্ত এলাকায়। বাড়িভাড়া নিয়ে ফেরিওয়ালা সেজে রেইকি করছে এলাকা। তারপর ডাকাতি করে আবার ফিরে যাচ্ছে। গত ২৯ নভেম্বর সুতি থানার মদনা এলাকার একটি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল মুর্শিদাবাদের পুলিশ। ধরা পড়ল উত্তরপ্রদেশের ‘বদায়ু’ গ্যাংয়ের ৬ দুষ্কৃতী। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থানা এলাকায় থেকে তিন মহিলা-সহ ওই গ্যাংয়ের মোট ছ’জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সুতি থানার পুলিশ।

মুর্শিদাবাদে ঢুকে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের ‘বদায়ু’ গ্যাং
মুর্শিদাবাদে ঢুকে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের ‘বদায়ু’ গ্যাং

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত মাসখানেক আগে। ২৯ নভেম্বর দুপুরে মদনা এলাকার ওই সোনার দোকানে হানা দেয় ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল। দোকানের নাইট গার্ডকে বেঁধে রেখে চোখের পলকে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না লুট করে চম্পট দেয় তারা। তদন্তে নেমে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে জানা যায় যে, এই দুষ্কৃতীরা বাংলার নয়। বরং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা এই ‘বদায়ুঁ’ গ্যাং সুতি এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝড়খণ্ডের পাকুড় এলাকায় হানা দিয়ে অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম সুনীল, বিজয় সিং, শ্যামসুন্দর, সোনি, প্রিয়াঙ্কা এবং রুবি। তাদের প্রত্যেকেরই বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই গ্যাংটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে অপরাধ ঘটায়। ভিনরাজ্য থেকে এসে তারা প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এলাকায় যাতে কেউ সন্দেহ না করে, তাই সঙ্গে রাখা হয় পরিবারের মহিলা সদস্যদের। মহিলারা সঙ্গে থাকায় খুব সহজেই এলাকায় বাড়িভাড়া পেয়ে যেত এই দুষ্কৃতীরা। এরপরই শুরু হত ‘অপারেশন’-এর প্রস্তুতি। গ্যাংয়ের পুরুষ সদস্যেরা দিনেরবেলা ফেরিওয়ালা সেজে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরত এবং সম্ভাব্য দোকান বা বাড়ি ‘রেকি’ করে আসত। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বলেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত আরও তথ্য ও লুট হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ওই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।