বেলডাঙাকাণ্ডে নয়া মোড়! CCTV-সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে গ্রেফতার আরও ৫, পুলিশের ধরপাকড়...
জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ নিজে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাঁরা অশান্তি ছড়িয়েছেন, তাঁদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় টানা দু’দিনের উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট চাপের। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। পথ অবরোধ থেকে শুরু করে এলাকায় ভাঙচুর, ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ- পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে। শনিবারও উত্তেজনা কমেনি। পরপর দুদিন আক্রান্ত হন সাংবাদিকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পদক্ষেপ নেয় এবং একে একে শুরু হয় গ্রেফতারির পালা। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার পুলিশের জালে এল আরও ৫।

বেলডাঙায় তৎপরতা বাড়াল পুলিশ
শুক্রবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকা জুড়ে বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুরের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামে বিশাল পুলিশবাহিনী। এই মুহূর্তে বেলডাঙার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। এলাকার দোকানপাট ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। এমনকী স্বাভাবিক হয়েছে রেল পরিষেবাও। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে পুলিশি অভিযানও চলছে। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ নিজে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাঁরা অশান্তি ছড়িয়েছেন, তাঁদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারপরই শুরু হয় অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি অভিযান। সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে দোষীদের শনাক্তকরণ। প্রথম দফায় গ্রেফতার হন আইএমআইএম নেতা এবং বেলডাঙা ১ ব্লকের সভাপতি মতিউর রহমান-সহ একাধিক অভিযুক্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফুটেজ দেখে আরও অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পাঁচজন গ্রেফতার
সোমবার রাতেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও ৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম-নূর আলম, রবিউল ইসলাম, নূর আলম মোল্লা, লাদিম শেখ এবং তুফাইল শেখ। পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের বহরমপুর আদালতে তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও অবধি বেলডাঙা-কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা ৩৬ জন। পাশাপশি পুলিশের এই অভিযান যে চলবে, সেটাও জানান হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার নজরদারি ও মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় এখনও টহলদারি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যে কোনও রকম অশান্তি ঠেকাতে প্রশাসন প্রস্তুত। পাশাপাশি স্থানীয়দের কোনও রকম অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বেলডাঙার এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
E-Paper











