প্রতিপক্ষ লাভলি-অগ্নিমিত্রা! ভোটের মুখে বিরাট চমক রাজন্যার, কোন দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন জানেন?

প্রার্থী ঘোষণার পরই রাজন্যা হালদার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনও দল নয়, মানুষের জন্যই লড়তে চান।

Published on: Mar 20, 2026, 14:04:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এক সময় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর কণ্ঠস্বর গোটা রাজ্যের নজর কেড়েছিল। যুবনেত্রী হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন রাজন্যা হালদার। সেই ভাইরাল বক্তৃতার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিসরে তিনি পরিচিত মুখ। তবে এবার তিনি নতুন ভূমিকায়, নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটের ময়দানে নেমেছেন।

ভোটের মুখে বিরাট চমক রাজন্যার
ভোটের মুখে বিরাট চমক রাজন্যার

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ।’ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠকে নিজের দলের নাম ঘোষণা করেন একদা তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার। সেখানেই তিনি কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী দেবেন তা খোলসা করেছেন। একই সঙ্গে জনসংগ্রাম মঞ্চে'র পক্ষ থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে রাজন্যা হালদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি সরব হয়েছেন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-উভয়ের বিরুদ্ধেই।

আরজি কর-কাণ্ডের আবহে, তিলোত্তমাদের প্রতিবাদ নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে, দলের রোষে পড়েন রাজন্যা। ডায়মন্ড হারবারের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার তৎকালীন সহ সভানেত্রী রাজন্যা হালদারকে সাসপেন্ড করে দেয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে সাসপেনশনের পরও শর্টফিল্মের মুক্তিতে অনড় ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয় সংগঠনের তৎকালীন রাজ্য সহ সভাপতি প্রান্তিক চক্রবর্তীকে। এরপর বিভিন্ন কারণে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই থাকে। কসবার ল' কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগে যখন রাজ্যজুড়ে শোরগেল, তখন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাজন্যা হালদার। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলেরই একাংশ দলের অন্দরে জুনিয়রদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং দলীয় নেতৃত্বের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণও শুরু হয়। এরপর ২০২৫ সালের শেষের দিকে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা শোনা গেলেও, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবেই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

রাজন্যা হালদারের বক্তব্য

প্রার্থী ঘোষণার পরই রাজন্যা হালদার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনও দল নয়, মানুষের জন্যই লড়তে চান। রাজন্যা বলেন, 'সোনারপুর দক্ষিণ তাঁর নিজের এলাকা, কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেখানে মানুষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। মানুষকে নাজেহাল করে ছেড়েছে।' তাঁর অভিযোগ, এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই, এমনকী নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনে যাওয়ারও সঠিক ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেই তাঁর দাবি। আসানসোল দক্ষিণ নিয়েও একই সুর শোনা যায় তাঁর কথায়। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বিধায়ককে খুব একটা দেখা যায় না এবং নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। এমনকী বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহলের লোকজনই তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন বলেও দাবি করেন রাজন্যা। সব মিলিয়ে, দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজন্যা হালদারের লড়াই ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর এই পদক্ষেপ ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।