পাহাড়ে জমজমাট চতুর্মুখী লড়াই! গোর্খা আবেগে শান দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা অজয় এডওয়ার্ডের, দার্জিলিংয়ে...

পাহাড়ে এবার লড়াই একেবারে চতুর্মুখী হতে চলেছে। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।

Published on: Mar 30, 2026, 21:15:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ছাব্বিশের মহারণে পাহাড়ে এবার বিরাট চমক। বিজিপিএম, বিজেপি-গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জোট ও কংগ্রেসের সঙ্গে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী করবে অজয় এডওয়ার্ডের নবগঠিত ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টও। দলের তরফে রবিবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তালিকায় প্রথমেই নাম রয়েছে অজয় এডওয়ার্ডের। দার্জিলিং বিধানসভা আসন থেকে ২৬'এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

গোর্খা আবেগে শান দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা অজয় এডওয়ার্ডের (সৌজন্যে ফেসবুক )
গোর্খা আবেগে শান দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা অজয় এডওয়ার্ডের (সৌজন্যে ফেসবুক )

উন্মুক্তি সেতুর নির্মাণ সংক্রান্ত একটি কর্মসূচিতে ফ্রন্টের তরফে এজয় এডওয়ার্ড জানান, তিনি নিজে দার্জিলিং বিধানসভা আসন থেকে লড়াই করবেন। এছাড়া কার্শিয়াংয় আসনে বন্দনা রাই, কালিম্পংয়ে ভের্নন ব্রিট্টো লেপচা, শিলিগুড়ি আসনে কৃষ্ণ আনন্দ সিং ও মাটিগারা-নকশালবাড়ি আসনে নিমেশ সুনদাস প্রার্থী হবেন। এছাড়াও তরাই ডুয়ার্স জনশক্তি ফ্রন্টের ব্যানারে নাগরাকাটা আসনে রণজিৎ খেস ও মালবাজার আসনে চন্দন লোহরা লড়াই করতে চলেছেন। সব মিলিয়ে তাঁরা ১০টি আসনে প্রার্থী দিতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন অজয় এডওয়ার্ড। এর আগে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা তাদের ৩ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিজিপিএম প্রার্থীদের সমর্থন করেছে। অন্যদিকে, বিজেপিও ৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এরমধ্যে দার্জিলিং আসনটি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জন্য ছাড়া হয়েছে।

পাহাড়ে এবার লড়াই একেবারে চতুর্মুখী হতে চলেছে। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে তা জানা যাবে আগামী ৪ মে। পাহাড়ের ভোটে এবার প্রথম অনীত থাপা, বিমল গুরুং ও অজয় এডওয়ার্ড আলাদা আলাদা হয়ে লড়াই করছে। এরমধ্যে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের তরফে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। দলের সুপ্রিমো অজয় এডওয়ার্ড বলেন, 'আমরা চেয়েছিলাম পাহাড়বাসীর দাবি গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আন্দোলন করতে। তাই চেয়েছিলাম আঞ্চলিক সব দলগুলো একসঙ্গে মিলেমিশে প্রার্থী দেব। কিন্তু কেউ রাজি হল না। তাই আমরা একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য পাহাড়ের উন্নয়ন এবং পৃথক রাজ্য।' এদিকে, অজয় প্রার্থী ঘোষণা করায় বেশ খুশি ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, 'আমরা চেয়েইছিলাম অজয় প্রার্থী দিক। তা হয়েছে এতে আমাদের সুবিধাই হল। এ বছর পাহাড়ের তিনটি আসনই আমরা দখল করব।'

ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট গঠন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট গঠন করেন এক সময়ে হামরো পার্টির প্রধান অজয় এডওয়ার্ড। নিজের দল হামরো পার্টিকে এই নতুন দলে মিশিয়ে দেন তিনি। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, তৃণমূল কংগ্রেস, জিএনএলএফ থেকে অনেকেই অজয়ের নতুন পার্টিতে যোগ দেন। এই প্রথম এই নতুন দল কোনও নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছে। এর আগে জিএনএলএফ ছেড়ে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর হামরো পার্টি নাম দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন অজয় এডওয়ার্ড। এমনকী দার্জিলিং পুরসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড দখল করে দলটি। কিন্তু খুব বেশিদিন দার্জিলিং পুরসভার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি হামরো পার্টি। অনীত থাপার নেতৃত্বে বিজিপিএম গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) ক্ষমতা দখলের পরেই দার্জিলিং পুরসভায় হামরো পার্টির কাউন্সিলারদের ভাঙিয়ে বোর্ড দখল করে। অজয়রা জিটিএ ভোটে বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হলেও বেশিরভাগটাই অনীতদের পক্ষে চলে যায়। ফলে এই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই অজয় এডওয়ার্ডের এই নতুন দলের জন্য অ্যাসিড টেস্ট বলা যেতে পারে।