'জয় শ্রীরামে'র পাল্টা 'ইনকিলাব' স্লোগান! রামনবমী ঘিরে উত্তপ্ত যাদবপুর-কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

গত কয়েক বছর ধরে যাদবপুরে রামনবমী পালন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এবার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও, তার সঙ্গে জুড়ল রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়।

Published on: Mar 26, 2026, 20:33:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বৃহস্পতিবার বাংলায় রামনবমী ঘিরে উৎসবের পরিবেশ। আর তার মধ্যেই যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হল তীব্র উত্তেজনা। পুজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দুই ছাত্রশিবির-একদিকে ‘জয় শ্রীরাম’, অন্যদিকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ ছুটির দিনেও উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস রাজনীতি, যা নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

রামনবমী ঘিরে উত্তপ্ত যাদবপুর-কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (PTI)
রামনবমী ঘিরে উত্তপ্ত যাদবপুর-কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (PTI)

জানা গিয়েছে, গত বুধবারই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে পুজোর অনুমতি চেয়েছিলেন এবিভিপি-র নেতারা। যাদবপুরে মৌখিক সম্মতি মিলেছে বলে দাবি সংগঠনের, যদিও লিখিত অনুমতি ছিল না। অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমতি না মেলায় কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে ভগবান রামের পুজোর আয়োজন করা হয়। এদিকে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ যাদবপুর ক্যাম্পাসে ভগবান রামের মূর্তি নিয়ে উপস্থিত হন এবিভিপি-র সদস্যেরা। একই ভাবে পুজোর আয়োজন করে এনএসএফ। একটি পুজো হয়েছে ত্রিগুণা সেন সভাঘরের উল্টো দিকে। আর একটি পুজো হয় প্রযুক্তি ভবনের নীচে। অভিযোগ, পুজো চলাকালীনই সেখানে উপস্থিত হন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান-‘জয় শ্রীরাম’-এর জবাবে ওঠে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে। বচসা যাতে বেশি দূর না গড়ায়, আসরে নামেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। এবিভিপি-র দাবি, উপাচার্য মৌখিক অনুমতি দিলেও কোনও লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। এদিকে, উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে পুজোর অনুমতি দেননি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল বলেন, 'বুধবার ছাত্রেরা এসেছিল আমাদের কাছে। আমরা লিখিত ভাবে কোনও অনুমতি দিইনি। তবে বাধাও দিইনি।' বৃহস্পতিবার এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাস বলেন, 'আমরা যখন পুজো করছিলাম, তখন অতিবাম কিছু ছাত্র এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তবে উপাচার্য নিজে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। ' অন্যদিকে বাম মনোভাবাপন্ন আরএসএফ-এর সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, 'ক্যাম্পাসে যে কোনও পুজোই হতে পারে। সরস্বতীপুজোও তো হয়। কিন্তু গত দশ বছরে এই রামপুজোকে ঘিরে যে ভাবে আরএসএস সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাতে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের আপত্তি এখানেই। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, মৌখিক বা লিখিত কোনও অনুমতিই ছিল না।'

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, 'ক্যাম্পাসে অনুমতি চেয়েছিল একটি দল, সে অনুমতি দেওযা যায়নি। কারণ এখানে শুধুই সরস্বতীপুজোর অনুমতি রয়েছে। কিন্তু মূল ফটকের বাইরে যদি কিছু হয়, তাতে আমাদের কিছু করার নেই। আজ রামনবমীর সরকারি ছুটি, ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ বন্ধ।' তিনি দাবি করেন, যাঁরা পুজো করছেন তাঁরাও পুলিশ নিরাপত্তার দাবি করেছিলেন। তবে ক্যাম্পাসের ভিতর তিনি পুলিশ ঢুকতে দিতে চাননি। বরং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

গত কয়েক বছর ধরে যাদবপুরে রামনবমী পালন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এবার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও, তার সঙ্গে জুড়ল রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়। সব মিলিয়ে রামনবমীর দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ফের শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।