Jadavpur University: লিখবে-মুছবে! ফের মোছা হল যাদবপুরের দেওয়াল লিখন, চুনকামে ঝাপসা 'কার্ল মার্ক্স'
Jadavpur University: এবার ওপেনএয়ার থিয়েটারের ওই দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই কাজ কী কর্তৃপক্ষ করল নাকি অন্য কেউ? সেই বিষয় এখনও পরিষ্কার হয়নি।
Jadavpur University: একদল লিখবে, আরেকদল মুছবে, আবারও আরেক দল লিখবে! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) দেওয়াল লিখন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছেই। সেই আবহে মঙ্গলবার গভীর রাতে ফের ক্যাম্পাসের ভিতরের দেওয়ালের কার্ল মার্ক্সের ওই উক্তি মুছে দেওয়া হল। ওপেনএয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে ওই উক্তি লেখা ছিল। সাদা চুনকামের ওপরে কার্ল মাক্সের স্লোগান লেখা হয়েছিল। সেগুলো ফের চুনকাম করে মুখে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী এই দেওয়াল লিখন মুছে দিল? যদিও ঘটনা নিয়ে ফের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কার্ল মার্ক্সের উক্তির সঙ্গে তো কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগানের যোগাযোগ নেই। তাহলে কেন ওই উক্তি মোছা হল?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া নির্দেশের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা একাধিক বিতর্কিত দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি মোছার কাজ শুরু হয়েছিল শনিবার রাতে। রবিবার যেখানে যত দেওয়াল লিখন ছিল, তা সাদা রঙের প্রলেপে ঢেকে দেওয়া হয়। এবিভিপি জানিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দেওয়াল লিখন মুছে দেয়। এ নিয়ে সিপিএম ও এসএফআই পালটা প্রশ্ন তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেশ বিরোধিতার শামিল। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কাম্য নয়। তাই তা মুছে ফেলা হয়েছে।
যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মুছে ফেলা ওই দেওয়ালে ফের লেখা হয়েছিল স্লোগান। কার্ল মার্ক্সের উক্তির চার লাইন লিখে দিয়েছিল কেউ বা কারা। অনুমান করা হয়েছিল, সেটি বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের কাজ। তবে কে বা কারা ওই কাজ করেছিল, তা জানা যায়নি। এসএফআই জানিয়েছে, রাতে নয়, তারা দিনের আলোয় ফের দেওয়াল লিখন করবে। মঙ্গলবারের রাতের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলে সুর চড়িয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির দাবি, নকশালপন্থীদের কাজ এটি। এ বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানাবে।
এবার ওপেনএয়ার থিয়েটারের ওই দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই কাজ কী কর্তৃপক্ষ করল নাকি অন্য কেউ? সেই বিষয় এখনও পরিষ্কার হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি বা পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে রাশ টানার আর্জি জানিয়েছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার এই নিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। সেই চিঠিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক, আধিকারিক ও কর্মীদের কাছে যত্রতত্র দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি ও পোস্টার না লাগানোর আর্জি জানান। তারপরই কী ওই দেওয়াল লিখন মুখে ফেলা হল? সেই চর্চাও চলছে। সব মিলিয়ে, দেওয়াল লিখন মোছা ও পুনর্লিখনের এই ধারাবাহিক সংঘাতের জেরে যাদবপুর ক্যাম্পাস আপাতত রাজনীতির উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
E-Paper

