Jai Shree Ram Controversy in Siliguri Court: হিজাব পরা বিচারককে দেখেই আদালতে ‘জয় শ্রী রাম’! শিলিগুড়িতে চাঞ্চল্য

ঘটনাটি শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর ৪ আদালতে। ২০১৮ সালের একটি পুরনো মামলায় বুধবার মোট ২৪ জন অভিযুক্তকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। সেই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল একটি আন্তধর্মীয় বিয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি থেকে।

Published on: Oct 1, 2026, 12:30:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

শিলিগুড়ির আদালতকক্ষে বিচারকের পোশাক ঘিরে তৈরি হল বিতর্ক। বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজিরা দিতে এসে এক অভিযুক্ত হিজাব পরা বিচারককে দেখে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে আলোচনা শুরু হয়। পরে অভিযুক্তের আইনজীবী জানান, বিচারককে উদ্দেশ্য করে ওই স্লোগান দেওয়া হয়নি। ঘটনার জন্য আদালতের মধ্যেই ক্ষমাও চাওয়া হয়।

ঘটনাটি শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর ৪ আদালতে।
ঘটনাটি শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর ৪ আদালতে।

ঘটনাটি শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর ৪ আদালতে। ২০১৮ সালের একটি পুরনো মামলায় বুধবার মোট ২৪ জন অভিযুক্তকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। সেই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল একটি আন্তধর্মীয় বিয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি থেকে। ওই সময় কয়েক জন ব্যক্তি ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঘাযতীন পার্ক এলাকা থেকে মিছিল করে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দফতরে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের তরফে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার কয়েক জন অভিযুক্ত আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। বাকিদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে ওয়ারেন্টও জারি হয়েছিল। সেই কারণেই বুধবার নির্দিষ্ট দিনে তাঁদের আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়। সকলে আদালতে পৌঁছনোর পর বিচারকের নির্দেশে একে একে নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ই এক অভিযুক্ত বিচারকের দিকে তাকিয়ে ধর্মীয় স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আদালতকক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তদের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, ওই স্লোগান বিচারকের উদ্দেশে বলা হয়নি। নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের এক জন অভ্যাসবশত কথাটি বলে ফেলেছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই অভিবাদন জানানোর সময় এই ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন, তবে আদালতের পরিবেশে এমন শব্দ উচ্চারিত হওয়ায় তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

ঘটনাকে অবশ্য একেবারেই স্বাভাবিক বলে দেখছে না শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার জানিয়েছেন, আদালতকক্ষে এই ধরনের ঘটনা হওয়া অনভিপ্রেত। তাঁর মতে, বিষয়টি গুরুতর হলে আদালত নিজের উদ্যোগেও ব্যবস্থা নিতে পারত। অর্থাৎ আদালতের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

আইনজীবীদের আরও একটি সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ের বক্তব্য, আদালত এমন একটি জায়গা যেখানে ধর্ম, রাজনীতি কিংবা অন্য কোনও বিতর্কের প্রভাব থাকার কথা নয়। সেখানে নিরপেক্ষ ভাবে বিচারপ্রক্রিয়া চলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আদালতকক্ষে কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

যদিও অভিযুক্তের আইনজীবীর ব্যাখ্যা, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তাঁর দাবি, বিচারককে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য আদালতে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত বড় কোনও আইনি পদক্ষেপের কথা সামনে আসেনি। তবে এই ঘটনা আদালতের পরিবেশ, বিচারকের প্রতি সম্মান এবং বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু করেছে।

শিলিগুড়ির এই ঘটনা তাই শুধু একটি স্লোগানকে ঘিরে বিতর্ক নয়। আদালতকক্ষের শৃঙ্খলা কতটা কঠোর ভাবে বজায় রাখা প্রয়োজন, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More