Mamata Banerjee: 'মমতার প্রতি ভালোবাসা অটুট!' প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুর্দশায় কষ্ট পান কবি জয় গোস্বামী
Mamata Banerjee: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁকে আগের মতো দেখা না গেলেও তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জয় গোস্বামী।
Mamata Banerjee: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পাঁচ মাস পরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর মুখে কার্যত নীরবতা। একসময় সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিভিন্ন কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যেত শুভাপ্রসন্ন, যোগেন চৌধুরী, কবীর সুমন ও আবুল বাশারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের। কিন্তু নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের অনেকেই আর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক অবস্থান জানাতে চাইছেন না। তবে ব্যতিক্রম কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)। কবি জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসা এখনও অটুট। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে কষ্ট দেয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা অটুট জয় গোস্বামীর
অন্যদের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন কবি জয় গোস্বামী। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, এমন মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তিনি দেখেননি। তবে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁকে আগের মতো দেখা না গেলেও তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জয় গোস্বামী। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইন-কে সাক্ষাৎকারে কবি বলেছেন, 'আগেও তো কোনও দিন তাঁর বাড়ি যাইনি। এখনও যাওয়ার প্রশ্ন আসছে না। ব্যক্তিগত ভাবে মমতার প্রতি ভালোবাসা আমার অটুট। আসলে, এই নারীর একা লড়াই, সর্বোচ্চ পদে উত্থান, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া, এবং তা থেকে এমন সর্বাঙ্গীন পতন, এ আমি আর কোথাও দেখিনি। তাঁর দুর্দশায় আমি দুঃখ পাই। ভুল লোককে ভরসা করা তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল। তা বলে আমি তাঁকে সহানুভূতি জানাতে যাব না। তা হলে তাঁকে অসম্মান করা হয়। বিরলে দুঃখ পাই। বিরলেই পাব।'
তাঁর কথায়, 'দীর্ঘদিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলে মাটির সঙ্গে যে-কারওর যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। সত্যিকারের শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গেও যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে। মমতারও সেটাই হল। এত দেরিতে বুঝলেন যে, আর করার কিছু রইল না।' কবির দাবি, '২০০৯ সালে মহাশ্বেতাদি মমতাকে আমার সামনে পরামর্শ দিয়েছিলেন, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে যেন তিন-চার মাস অন্তর একটা করে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। কিন্তু ২০১১-র পর সে সব বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমে তাঁর আশেপাশের বৃত্তও পাল্টাতে থাকে। শিক্ষাবিদ সুনন্দ সান্যাল, কবি তরুণ সান্যালেরা সরে গেলেন। যাঁরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সাহিত্য, চলচ্চিত্র, চিকিৎসা এই সব জগৎ নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী, তাঁরা এলেন। ২০১৪-র পর দ্বার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হল। যাঁরা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে মমতা তথা আমাদের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরা এসে মমতার উচ্চ প্রশংসা দ্বারা বড় বড় পদে বসে পড়লেন। এ দিকে ক্রমশ দ্বার বন্ধ হয়ে গেল আমাদের মতো পুরনোদের। শুধু সৌজন্যমূলক যোগাযোগটুকু রইল। নেত্রী নিশ্চিন্ত রইলেন যে, সব ঠিক আছে। কিন্তু ঠিক তো সব ছিল না।'
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে তিনি বলেন, 'মানুষকে দেখার যে দৃষ্টি তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে তুলেছিল, সেই দৃষ্টি স্বার্থান্বেষীদের দ্বারা ক্রমশ প্রভাবিত হল। এমনকী, এঁরাই কখনও তাঁর চোখ হয়ে উঠলেন। এর থেকে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে?' দুর্নীতির প্রসঙ্গে জয় গোস্বামী বলেন, 'সে তো চারদিকে ছড়িয়ে গেলই। নেত্রীর জীবন সাধাসিধে, কিন্তু পার্শ্বচরদের জীবন বিলাসবহুল। কারা তাঁকে ঘিরে ধরল! যত দিন গেল, এদেরই প্রভাব বাড়ল। আজ যখন তাঁকে চোর বলা হয়, আমার চোখে জল আসে। তবে আমি মনে করি, উনি কোনও দিনই নিজে চোর ছিলেন না, নিজে চোর হবেন না।'
রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকে নীরব থাকলেও জয় গোস্বামী তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি অনুরাগের পাশাপাশি ক্ষমতাকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
E-Paper

