Calcutta High Court: কল্যাণের পর বিচারপতিও সরলেন! অভিষেকের সই-জাল মামলায় নয়া মোড়, কী পরামর্শ হাইকোর্টের?

Calcutta High Court: সই জাল কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের কালীঘাটের দফতরে তল্লাশি অভিযান হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

Published on: Jun 15, 2026, 19:55:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Calcutta High Court: বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই মামলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মামলা ছাড়ার সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হাজারও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এবার সইজাল কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা ছাড়লেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে মামলা পাঠানো হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলা পাঠাবেন প্রধান বিচারপতি।

সইজাল কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা ছাড়লেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (HT_PRINT)
সইজাল কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা ছাড়লেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (HT_PRINT)

সই জাল কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের কালীঘাটের দফতরে তল্লাশি অভিযান হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি নিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ওই সই জাল কাণ্ডেই অন্য কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এই অবস্থায় একই মামলার শুনানি দুই বেঞ্চে হলে, নির্দেশ আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়া হচ্ছে। বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই মামলাটির শুনানি হওয়া উচিত বলে পর্যবেক্ষণ বিচারপতি ভট্টাচার্যের।

সই জাল কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রীর বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল দফতরে যায় সিআইডি-র একটি দল। তবে প্রথমেই দফতরের ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেতার সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় ঘণ্টা দুই কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি। তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেন যে, কোনও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং সিজার লিস্ট ডকুমেন্ট ছাড়াই সিআইডি জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করে। সিআইডি-র ওই কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। চলতি সপ্তাহে বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা ছিল। যদিও তা থেকে অব্যাহতি নিলেন তিনি।

সই জাল কাণ্ডেই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টেরই দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে তার শুনানি হয়। বিচারপতি জানান, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। আদালত জানিয়েছিল, তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানালেন, যেহেতু সই কাণ্ডে অভিষেকের আবেদনের শুনানি হচ্ছে, তাই অন্য বেঞ্চ আর এই সই সংক্রান্ত কোনও মামলা শুনবে না।

প্রসঙ্গত, সই-জালিয়াতি মামলার শুরু থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করে আসছিলেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই মামলায় আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক শুনানির আগে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুনানির আগের রাতেই তাঁদের জানানো হয়েছিল যে এই মামলায় আর তাঁদের আইনি পরিষেবার প্রয়োজন নেই। সেই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের সামনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একই বিষয়ে নতুন একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে এবং সেখানে অন্য আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিষয়টি নিয়ে সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে এবং একই বিষয় নিয়ে একাধিক আইনি প্রক্রিয়া জটিলতা বাড়াচ্ছে।

এখন নজর প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের দিকে। তিনি কোন বেঞ্চে মামলাটি পাঠান এবং পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী অধ্যায়।