Kalicharan Latest Update: তারাতলা বিপর্যয়ে ধৃত কালীচরণকে নিয়ে হাওড়ায় তল্লাশি, আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছে সিট
তারাতলার বহুতল গোডাউনের নির্মাণ পরিকল্পনা কীভাবে অনুমোদন পেয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন এবং অনুমোদনের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্ল্যান অনুমোদনের জন্য কলকাতা পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তে আরও জোরালো পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে রবিবার হাওড়ায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রের খবর, প্ল্যান অনুমোদন, আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদেও কালীচরণ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলার বহুতল গোডাউনের নির্মাণ পরিকল্পনা কীভাবে অনুমোদন পেয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন এবং অনুমোদনের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্ল্যান অনুমোদনের জন্য কলকাতা পুরসভাকে ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থের কতটা কালীচরণের কাছে পৌঁছেছিল, তা সরাসরি নাকি কোনও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসেছে এবং ওই টাকার অংশ অন্য কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছেও গিয়েছিল কি না, তা নিয়েও জেরা করা হয়েছে তাঁকে।
তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছেন, কালীচরণের সুপারিশে অতীতে আর কতগুলি নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে এবং সেই ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে কি না। তবে গোয়েন্দাদের দাবি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ধৃত ওএসডি। সেই কারণেই সম্ভাব্য নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের খোঁজে তাঁর হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
ইতিমধ্যেই তারাতলার নির্মাণ পরিকল্পনা-সহ একাধিক সরকারি নথি চেয়ে কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, সেই নথি হাতে এলেই প্রয়োজনে আরও পুর-আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই তদন্ত প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, “শুধু কালীকে ধরলে হবে না, কালীর পরে পেন, দোয়াতদেরও ধরতে হবে।”
অন্যদিকে, তারাতলার ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, কেউ ভিতরে থাকলেও এতদিন পর তাঁর জীবিত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজেশ রুইদাস এখনও এসএসকেএম হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। রবিবার অস্ত্রোপচার করে তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। একই ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন বোদন মুন্ডা। এছাড়া এইচডিইউ-তে চিকিৎসাধীন বিশ্ব প্রকাশ এবং আরও এক আহত সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনাস্থলে এখনও সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যদিও সেনার অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনও নিখোঁজের অভিযোগ না এলেও, বহু শ্রমিক ভিনরাজ্যের হওয়ায় তাঁদের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেই কারণেই উদ্ধার অভিযান এবং তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে প্রশাসন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


