Bhawanipur Election Case: 'নতুন ইতিহাস তৈরি করতে সাহায্য...,' ভবানীপুর মামলায় বিশেষ আর্জি কল্যাণের, কী বললেন বিচারপতি?

Bhawanipur Election Case: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, 'পাঁচ বছরেও ইলেকশন পিটিশন মামলা শেষ হয় না। এটা কলকাতা হাইকোর্টের খারাপ ইতিহা। নতুন ইতিহাস তৈরি করতে সাহায্য করুন।'

Published on: Aug 4, 2026, 15:38:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bhawanipur Election Case: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানিতে তৈরি হলো নতুন জটিলতা। যার জেরে ফের একবার পিছিয়ে গেল ভবানীপুর-মামলা। ছ’সপ্তাহ পরে এই মামলার শুনানি হবে। সবাইকে নতুন করে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের প্রার্থী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আজ, মঙ্গলবার মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতেই এই মামলায় সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান যে, মামলার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও তাঁদের হাতে এসে পৌঁছয়নি। এর ফলে মামলার শুনানি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জয়দীপ কর লিখিত জবাব জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে চার সপ্তাহ সময় চান। এই সময়ের আর্জির বিরোধিতা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, 'পাঁচ বছরেও ইলেকশন পিটিশন মামলা শেষ হয় না। এটা কলকাতা হাইকোর্টের খারাপ ইতিহা। নতুন ইতিহাস তৈরি করতে সাহায্য করুন।' কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, '১৯৮১ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছি, মাত্র একটি মামলায় পাঁচ বছর শেষ হওয়ার তিন মাস আগে নিষ্পত্তি হয়েছে এই আদালতে। এবার এই মামলায় একটা নজির গড়তে দয়া করে সাহায্য করুন।' এরপরেই বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'চেষ্টা করছি।' অন্যদিকে পালটা সওয়ালে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী দাবি করেন, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট ইভিএম এবং মামলার যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সম্পূর্ণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাই নথি না পাওয়ার অজুহাতে মামলার গতি স্তব্ধ হওয়া বা বিলম্ব ঘটার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথির কপি অপর পক্ষের হাতে তুলে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই সংক্রান্ত একটি হলফনামাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে। এই নির্দেশের পরেই আদালত মামলার পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পরে মুলতুবি রাখার কথা ঘোষণা করে। পাশাপাশি, এই মামলায় নতুন মোড় এসেছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য এক প্রার্থীও এই আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই বিষয়েও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। নথি জট কাটানোর এই জটিল প্রক্রিয়ায় মামলার রায় কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

মামলার সূত্রপাত

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্র থেকেই ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, ‘১২ রাউন্ড গণনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এগিয়ে ছিলেন। এরপর সব বদলে যায়।’ তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টদের মারধর করা হয়, বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।