Karandighi Muslim Family: 'শুভেন্দুর রাজত্বে অবশেষে সুশাসন ফিরেছে', বলল তৃণমূল জমানায় ঘরছাড়া সংখ্যালঘু পরিবার
শামিম আখতার নামে এক ব্যক্তির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে তাঁদের ফের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূলের ভয় ও চাপে ওই পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির এক সংখ্যালঘু পরিবারকে বাড়ি ফেরালেন বিজেপির বিধায়ক। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে জমি মাফিয়ার আতঙ্কের কারণে সংখ্যালঘু পরিবারটি এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। এই আবহে সেই সংখ্যালঘু পরিবারটিকে তাদের বাড়িতে ফেরালেন বিজেপর বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শামিম আখতার নামে এক ব্যক্তির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে তাঁদের ফের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূলের ভয় ও চাপে ওই পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। নতুন সরকারের অধীনে এলাকার পরিবেশ বদলেছে। বাড়ি ফিরে এসে শামিম বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারীর রাজত্বে অবশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।'
উল্লেখ্য, আলতাপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শামিম আখতার ও তাঁর পরিবার। ২০২৩ থেকে বাড়িছাড়া ছিলেন তাঁরা। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ৩ বছর থাকতে পারেননি নিজের বাড়িতে। জানা যায়, তাঁর বাড়ি-সহ ৬০ কাঠা জমি হাতাতে চেয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শামিমের বাড়ির বিদ্যুৎ ও জলের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল এর জন্য। এই নিয়ে শামিম বলেন, 'মাননীয় বিচারপতি রাজশেখর মান্থার অর্ডারে আমি এসেছিলাম। আমার বাড়ি পুরো তছনছ। আমার টয়লেট সিল করে দেওয়া হয়েছে। জলের লাইন কেটে দিয়েছে। ট্য়াঙ্ক ফাটিয়ে, টিউবঅয়েল নষ্ট করে, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়। যেন আমি একটা দিনও এখানে না থাকতে পারি। প্রকাশ্যে ধমকি দেয়। পুলিশের সামনেই হুমকি দেয়, বলেছিল- ক'দিন পুলিশ থাকবে, তারপর কে বাঁচাবে তোদের? জায়গা জমি বিক্রি করে চলে যা এখান থেকে।'
এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিরোধী মতের মানুষ এবং বিশেষ করে বিজেপি সমর্থকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে বহু মানুষ বাড়িছাড়া হয়েছিলেন বলেও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আদালত এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। এই নিয়ে বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস বলেন, 'আমরা বলেছিলাম আইনের শাসন আমরা নিয়ে আসব। সেটাই একটা প্রথম ধাপ। দুষ্কৃতীরা পূর্বের যে বিধায়ক ছিল, তাঁরই নেতৃত্বাধীনে এই জমিটা দখল করতে এসেছিল। প্রথমে হুমকি-চমকি দেয় পরিবারকে জানে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা আজ এই দাদাদের বাড়িতে আবার ফিরিয়ে দিলাম। তাঁদের জমি তাঁদেরই এটা, তাঁদের অধিকার এটা। মাফিয়ার শাসন চলবে না। এবার টোকা দিয়ে দেখুক, আমরাও দেখে নেব।'
অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসকদলের বক্তব্য, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বাংলায় সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতেই বসবাস করেন এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি এই ঘটনাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের মতে, যারা একসময় আতঙ্কে ঘরছাড়া হয়েছিলেন, এখন তারা আবার নিজের এলাকায় ফিরতে পারছেন। অন্যদিকে তৃণমূল এই প্রচারকে রাজনৈতিক নাটক বলেই ব্যাখ্যা করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


