KMC Delimitation Latest Update: ডিলিমিটেশনে ১৪৪ থেকে ২০৯ ওয়ার্ড হবে কলকাতায়, তবে সীমানা নিয়ে ধোঁয়াশা!
দু’দিন আগে প্রকাশিত ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া তালিকায় কয়েকটি রাস্তার নাম উল্লেখ করা হলেও বুথ নম্বর কিংবা ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট মানচিত্র দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির নিচুতলায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
KMC Delimitation Latest Update: কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশনের পর নতুন ওয়ার্ডের সীমানা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ধোঁয়াশা। সাধারণ মানুষ তো বটেই, প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং বিধায়কদের অনেকেও এখনও নিশ্চিত নন, ডিলিমিটেশনের পর তাঁদের এলাকা কলকাতা পুরসভার কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দু’দিন আগে প্রকাশিত ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া তালিকায় কয়েকটি রাস্তার নাম উল্লেখ করা হলেও বুথ নম্বর কিংবা ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট মানচিত্র দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির নিচুতলায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

পুরসভার এই ‘অস্পষ্ট’ খসড়া তালিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেই। বাম, তৃণমূল এবং বিজেপির স্থানীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, নতুন ওয়ার্ডের সীমানা স্পষ্টভাবে না জানলে সংগঠন পরিচালনা থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রস্তুতি—কোনও কিছুই ঠিকমতো করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যাঁরা আসন্ন পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের চিন্তা আরও বেড়েছে।
ডিলিমিটেশনের ফলে ভোটারদের বিন্যাস কোন ওয়ার্ডে কীভাবে হয়েছে, কোন এলাকার ভোটার কোন ওয়ার্ডে পড়েছেন—এই তথ্য এখন রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পুরভোটের আগে জনসংযোগ এবং সংগঠন তৈরির কাজ শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। কিন্তু মানচিত্র বা বুথভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য না থাকায় সেই কাজ কার্যত আটকে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী এবং সম্ভাব্য প্রার্থী স্থানীয় বরো অফিসগুলিতে গিয়ে নতুন ওয়ার্ডের সীমানা সংক্রান্ত খসড়া মানচিত্র দেখার চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পুরসভার সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে চাননি বলে অভিযোগ। ফলে আরও বাড়ছে বিভ্রান্তি।
নতুন ডিলিমিটেশনে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ৬৫টি ওয়ার্ড বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দল বা ভোটারদের নয়, এই বিপুল সংখ্যক ওয়ার্ড বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক পরিকাঠামোতেও।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে পুরসভার মাসিক অধিবেশন নিয়ে। এতদিন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিল চেম্বারে ১৪৪ জন কাউন্সিলরের বসার ব্যবস্থা ছিল। তাঁদের পাশাপাশি সামনের দিকে পুরসভার বিভিন্ন আধিকারিকদের বসার জায়গাও রয়েছে। এবার কাউন্সিলরের সংখ্যা বেড়ে ২০৯ হওয়ায় একই জায়গায় এতজন জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে বসানো হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পুরসভার কেয়ারটেকার কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা পুরভবন ব্রিটিশ আমলে তৈরি একটি হেরিটেজ বিল্ডিং। তার ভিতরের কাউন্সিল চেম্বারও হেরিটেজ কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। ফলে ইচ্ছেমতো দেওয়াল ভাঙা, কাঠামো পরিবর্তন করা বা চেম্বারের বড়সড় সংস্কার করা সম্ভব নয়। হেরিটেজ নিয়ম মেনেই নতুন ব্যবস্থা করতে হবে পুরসভাকে।
প্রাথমিকভাবে কাউন্সিল চেম্বারের কিছু চেয়ার সরিয়ে পিছনের দিকে স্কুলের বেঞ্চের মতো আসন তৈরি করে অতিরিক্ত কয়েকজন কাউন্সিলরের বসার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে তাতেও অতিরিক্ত ৬৫ জন কাউন্সিলরের জায়গা করা কার্যত কঠিন বলে স্বীকার করেছেন পুরসভার মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার।
ফলে একদিকে ডিলিমিটেশনের পর নতুন ওয়ার্ডের সীমানা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা, অন্যদিকে ২০৯ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে পুরসভার অধিবেশন পরিচালনার বাস্তব সমস্যা—দুই দিক থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে কলকাতা পুরসভা। পুরভোট যত এগিয়ে আসবে, এই সীমানা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সমস্যা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


