KMC Wards: পুরভোটের আগে কলকাতায় বড়সড় সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতি, ১৪৪ থেকে ওয়ার্ড বেড়ে হতে পারে প্রায় ২০০

নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান হারে আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ১৮৬ থেকে ২০৪টির মধ্যে হতে পারে।

Published on: Jul 6, 2026, 10:17:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আসন্ন কলকাতা পুরভোটের আগে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান হারে আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ১৮৬ থেকে ২০৪টির মধ্যে হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ১৮৬ থেকে ২০৪টির মধ্যে হতে পারে। (PTI)
বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ১৮৬ থেকে ২০৪টির মধ্যে হতে পারে। (PTI)

পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন সীমানা নির্ধারণের খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে। কলকাতার মোট ভোটার সংখ্যা এবং বুথের হিসাব খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় সমসংখ্যক ভোটার এবং বুথ থাকে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি বুথ রাখার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে মোট প্রায় ৪,৮০০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে ১,৮৩৫টি বুথ এবং কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রে ২,০৩০টি বুথ। এছাড়া টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় রয়েছে ৩১০টি এবং যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় ৩৫৩টি বুথ। অন্যদিকে, মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার অন্তর্গত ১৩৬ থেকে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ড কলকাতা পুরসভার অংশ হলেও তা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমান ব্যবস্থায় ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ভোটার সংখ্যা এবং বুথের সংখ্যায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। যেমন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মাত্র ৯ হাজারের কাছাকাছি, অথচ ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। আবার উত্তর কলকাতার ১ এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডে যথাক্রমে ৫৮ ও ৫৯টি বুথ রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ৬৬, ৮১, ৯৩ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডেও বুথের সংখ্যা প্রায় ৬০। এত বড় পার্থক্যের ফলে নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যেসব ওয়ার্ডে ৫০টির বেশি বুথ রয়েছে, সেগুলি ভেঙে দুটি নতুন ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আবার উত্তর কলকাতার কয়েকটি ছোট ওয়ার্ড একত্রিত করে নতুন ওয়ার্ড গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে উত্তর কলকাতায় কিছু ওয়ার্ডের সংখ্যা কমলেও দক্ষিণ কলকাতা, টালিগঞ্জ এবং যাদবপুর এলাকায় কাউন্সিলরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৫ না ৩০টি বুথ রাখা হবে, সেই বিষয়ে নবান্নের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই চলতি মাসের শেষের দিকে ডিলিমিটেশনের খসড়া প্রকাশ করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হবে এবং নতুন সীমানা ও বুথ তালিকা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে।

পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি ভোটার থাকা ওয়ার্ড এবং মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার ভোটার থাকা ওয়ার্ড—উভয় ক্ষেত্রেই সমান ৩০ লক্ষ টাকা কাউন্সিলর তহবিল বরাদ্দ করা হয়। ফলে জনবহুল ওয়ার্ডে পরিষেবা দিতে সমস্যায় পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা। সেই বৈষম্য দূর করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই সীমানা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More