Koel Mallick on Joining BJP: তৃণমূলের পর বিজেপি, ট্রোলের জবাবেও কোয়েল স্বচ্ছন্দ, ‘মানুষের জন্য কাজ করতেই রাজনীতিতে’

তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর এ বার বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। সোমবার মুরলিধর লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন কোয়েল। তার পরেই বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।

Published on: Oct 5, 2026, 12:09:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

টলিপাড়ার পরিচিত মুখ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে কোয়েল মল্লিক। আর রাজনীতিতে পা রাখার কয়েক মাসের মধ্যেই বড় বদল। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর এ বার বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। সোমবার মুরলিধর লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন কোয়েল। তার পরেই বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি। দলবদল ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কটাক্ষ। তবে সেই সব আক্রমণকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ কোয়েল।

Koel Mallick joins BJP race for Rajya Sabha seat
Koel Mallick joins BJP race for Rajya Sabha seat

পদ্ম শিবিরে কোয়েল, মোদী ও শুভেন্দুকে ধন্যবাদ

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্বকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার সুযোগকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বড় মঞ্চ হিসাবেই দেখছেন অভিনেত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরাই তাঁকে এই নতুন দায়িত্বের জন্য বেছে নিয়েছেন।

কোয়েলের কথায়, মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছে তাঁর আগে থেকেই ছিল। রাজনীতির মাধ্যমে সেই কাজ করার সুযোগ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তিনি।

কেন বিজেপি, ব্যাখ্যাও দিলেন কোয়েল

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোয়েল বাংলার সাম্প্রতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে রাজ্যে যে ভাবে উন্নয়নের কাজ এগিয়েছে, তা দেখে তিনি উৎসাহিত। বাংলার মানুষ যাতে আরও ভাল থাকেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য আরও বেশি কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন কোয়েল। রাজনীতিকে তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন, যেখানে নিজের ভাবনা বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ মিলতে পারে।

দলবদল নিয়ে কটাক্ষ, হাসিমুখে জবাব

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোয়েলকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু হয়েছে। তাঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিককেও কটাক্ষ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের তরফে ওঠা সেই সব মন্তব্য নিয়ে অবশ্য আক্রমণাত্মক হননি কোয়েল।

বরং বেশ শান্ত ভাবেই তিনি জানিয়েছেন, ট্রোল বা কটূক্তিতে তিনি রাগ করেন না। নিজেকে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ব্যাখ্যা, অন্যকে অপমান করে যারা স্বস্তি পান, তাঁদের ভিতরে হয়তো নিজেদের ক্ষোভ বা অস্বস্তি কাজ করছে। তাই তাঁদের নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ার বদলে মানসিক সুস্থতার কামনা করাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি।

‘আমি কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলব না’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার বলেছেন কোয়েল। তাঁর দাবি, তিনি কখনও প্রকাশ্যে কোনও মানুষের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য করেননি। ভবিষ্যতেও সেই নীতি বদলাতে চান না।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে ছোট করে রাজনীতি করতে তিনি আগ্রহী নন। দলবদলের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই সমাজসেবার সঙ্গে পরিচয়

কোয়েল জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন। গরমের ছুটিতে অন্যদের মতো ঘুরতে না গিয়ে তাঁর মা তাঁকে মিশনারিজ় অফ চ্যারিটির মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। ফলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন সম্পর্কে ছোট বয়সেই তাঁর ধারণা তৈরি হয়েছিল।

সেই অভিজ্ঞতাই এখন রাজনীতিতে কাজ করার ইচ্ছাকে আরও জোরালো করেছে বলে জানিয়েছেন কোয়েল। তাঁর কথায়, জীবনে পাওয়া সুযোগের বাইরেও যে আরও একটি বাস্তব পৃথিবী রয়েছে, তা তিনি ছোটবেলা থেকেই বুঝেছেন।

সামনে রাজ্যসভা, নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষা

এ বার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি কোয়েলের। তৃণমূলের সাংসদ হিসাবে যে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল, তার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে দাঁড়িয়ে সেই যাত্রাই এগিয়ে নিতে চান তিনি।

তাই কোয়েলের কাছে এখন শুধু দলবদল নয়, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ও বড় পরীক্ষা। টলিউডের জনপ্রিয় মুখ হিসাবে যে পরিচিতি রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সঙ্গে কতটা যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন, রাজনীতিতে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন এবং রাজ্যসভার মঞ্চে নিজের উপস্থিতি কতটা জানান দিতে পারেন, নজর থাকবে সেদিকেই। তবে আপাতত কোয়েলের বার্তা স্পষ্ট, কটাক্ষ নয়, মানুষের জন্য কাজই তাঁর রাজনৈতিক পথের মূল লক্ষ্য।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More